গেলো ২০২৫ সালে মধ্য এশিয়ার অর্থনীতিতে দৃঢ় অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র ও তাজিকিস্তানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা বেড়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় এই অঞ্চলের সম্মিলিত অর্থনীতি ছয় শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলের গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ থেকে ৬ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে রেকর্ড হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, মধ্য এশিয়ার অর্থনীতি ৬ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে, ইউরেশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ইডিবি) এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৬ শতাংশের হিসেবে দেখিয়েছে। উন্নত দেশগুলোর তুলনায় মধ্য এশিয়ার এ অগ্রযাত্রা উল্লেখযোগ্য।
ইডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি হতে পারে মাত্র ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ইউরো জোনের দেশগুলোয় প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ১ শতাংশের মধ্যে সীমিত থাকতে পারে। এ অঞ্চলের বৃহত্তম অর্থনীতি কাজাখস্তানে ২০২৫ সালে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল রপ্তানি ও উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ দেশটিকে এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে নিয়ে গেছে।
উজবেকিস্তানের অর্থনীতি ২০২৫ সালে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম চড়া থাকায় রপ্তানি আয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে। গত বছরের তুলনায় স্বর্ণ রপ্তানি আয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটেছে। পাশাপাশি ডিজিটাল সেবা খাতের প্রসার সাধারণ মানুষের আয় কয়েক গুণ বৃদ্ধি করেছে।
কিরগিজ প্রজাতন্ত্র ২০২৫ সালে এ অঞ্চলের দ্রুততম বৃদ্ধি প্রদর্শন করেছে। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এখনও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।
ভৌগোলিকভাবে মধ্য এশিয়ার বাইরে হলেও আজারবাইজান এই অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি করিডর হিসেবে কাজ করছে। জ্বালানি তেল ও খনিজ পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা এবং চীনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মধ্য এশিয়ার প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতার ওপর নির্ভর করছে।

