Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice Sun, Feb 15, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ভাঙাচোরা অর্থনীতি পুনর্গঠনের নতুন রাষ্ট্রনায়কের সামনে যত চ্যালেঞ্জ
    অর্থনীতি

    ভাঙাচোরা অর্থনীতি পুনর্গঠনের নতুন রাষ্ট্রনায়কের সামনে যত চ্যালেঞ্জ

    মনিরুজ্জামানFebruary 15, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ১৭ বছরের স্বেচ্ছানির্বাসনের পর লন্ডনের কুয়াশা পেরিয়ে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। সময়টি ছিল রাজনৈতিকভাবে অস্থির। একই সঙ্গে দেশ বদলে গেছে একাধিক ঘটনার মধ্য দিয়ে, যার পেছনে ছিল বহু প্রাণের মূল্য। তাই তার এই ফেরা ছিল না কেবল ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন; এটি ছিল রাজনীতির মঞ্চে নাটকীয় পুনঃপ্রবেশ। দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেয় তার আগমন।

    কিন্তু প্রত্যাবর্তনের আবেগ স্থায়ী হয়নি বেশি দিন। মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ব্যক্তিগতভাবে এটি ছিল তারেক রহমানের জন্য গভীর শোকের মুহূর্ত। জাতীয় রাজনীতিতেও এর তাৎপর্য কম ছিল না। দীর্ঘ সংগ্রাম, কারাবাস ও অসুস্থতার অধ্যায় পেরিয়ে খালেদা জিয়ার প্রস্থান অনেকের কাছে একটি যুগের অবসান হিসেবে ধরা দেয়। সমর্থকদের মনে তৈরি হয় শূন্যতা ও অনিশ্চয়তার অনুভব।

    এই শোক কেবল একজন সন্তানের নয়, এক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারীর ওপরও প্রভাব ফেলে। বিএনপির জন্যও এটি ছিল এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। তবে ইতিহাস বলে, সংকটই অনেক সময় নতুন নেতৃত্বের পথ তৈরি করে।

    ব্যক্তিগত বেদনা ও জাতীয় আবেগের সেই সময়েই তারেক রহমান দল গোছানোর উদ্যোগ নেন। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র—সব পর্যায়ে পুনর্বিন্যাস শুরু হয়। নির্বাচনি প্রস্তুতি জোরদার করা হয়। সমর্থকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে দলে তৈরি হয় নতুন গতি। শেষ পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার নেতৃত্বে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পায়। এটি ছিল কেবল নির্বাচনি সাফল্য নয়, দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পূর্ণতা।

    এখন সামনে প্রধানমন্ত্রী পদের দায়িত্ব। সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের প্রাক্কালে নতুন নেতৃত্বের ওপর রয়েছে জনআকাঙ্ক্ষার বড় চাপ। পাশাপাশি আছে জটিল অর্থনৈতিক বাস্তবতা। ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই যেসব চ্যালেঞ্জ সামনে আসবে, তা বহুমাত্রিক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, সামাজিক স্থিতি বজায় রাখা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার—সব ক্ষেত্রেই দ্রুত ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে। নতুন নেতৃত্বের সাফল্য নির্ভর করবে এই বাস্তবতার মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতার ওপর।

    অর্থনীতি মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ ও প্রধান সূচকের অবস্থা:

    ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিপ্লবের পর বাংলাদেশের অর্থনীতি কঠিন এক বাস্তবতার মুখে পড়ে। নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দেয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে যায়। রপ্তানিমুখী উৎপাদন খাত বড় ধাক্কা খায়। এর প্রভাব পড়ে রপ্তানি আয়ে। সামগ্রিকভাবে রপ্তানি আয় নেতিবাচক প্রবণতায় চলে যায়।

    এই প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের সামনে জটিল চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ–এর সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, ক্ষমতা গ্রহণের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে এমন কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, যা তারা অতীত থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাবে।

    তিনি প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোকে কয়েকটি ভাগে দেখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগ স্থবিরতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির দুর্বলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের ধীরগতি এবং দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা। অর্থনীতিবিদদের মতে, এসব সূচকের উন্নতি ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হবে। ফলে নতুন সরকারের প্রথম কাজগুলোর একটি হবে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনীতিতে গতিশীলতা তৈরি করা।

    নিরাপত্তা রক্ষা করা:

    সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফেরানো এবং বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডকে পুনরুজ্জীবিত করার মূল শর্ত হিসেবে সামনে এসেছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি মানুষের মধ্যে ভীতির জন্ম দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে অর্থনীতির নানা খাতে।

    চলমান নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো নতুন বিনিয়োগে সতর্ক। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও ঝুঁকি নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। অর্থনীতিবিদদের মতে, একটি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি না হলে এই অনিশ্চয়তা কাটবে না। এমন পরিবেশ শুধু দেশীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের নতুন চুক্তিতে আস্থা জোগাতেও গুরুত্বপূর্ণ।

    এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি–এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম  বলেন, শিল্প ও ব্যবসা খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সবার আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি প্রয়োজন। তাঁর মতে, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে এবং জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এই দুই বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।

    অর্থনীতির স্থায়িত্ব ও বিনিয়োগে গতিশীলতা:

    নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় কাজ হবে বিনিয়োগে গতি ফেরানো এবং অর্থনীতিকে আবারও সচল ধারায় আনা। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, পরিস্থিতি সহজ নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ডিসেম্বর মাসে তা নেমে আসে ৬ দশমিক ১০ শতাংশে। অন্তত গত চার বছরের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন হার। এতে স্পষ্ট, বিনিয়োগ কার্যক্রমে স্থবিরতা রয়েছে এবং বেসরকারি খাত সতর্ক অবস্থানে আছে।

    একই সময়ে বিদেশি বিনিয়োগেও আশানুরূপ অগ্রগতি দেখা যায়নি। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রত্যক্ষ নিট বিদেশি বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশার তুলনায় এই পরিমাণ কম। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব ফেলেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, দ্রুত ও দৃঢ় নীতিগত পদক্ষেপ ছাড়া এই আস্থা পুনর্গঠন কঠিন হবে।

    এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক–এর ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃস্থাপন—নতুন সরকারের প্রাথমিক পর্যায়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে। তাঁর মতে, এর পাশাপাশি সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে টেকসই প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।

    ড. হোসেনের পর্যবেক্ষণ, এই চ্যালেঞ্জগুলো দক্ষভাবে মোকাবিলা করতে পারলেই নতুন সরকার জনআস্থা ধরে রাখতে পারবে এবং দেশি-বিদেশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন প্রাণ সঞ্চার সম্ভব হবে।

    মূল্যস্ফীতির লাগাম বাঁধা:

    গত কয়েক মাসে মুদ্রাস্ফীতি ধারাবাহিকভাবে উচ্চ হার ধরে রেখেছে। তবে মানুষের প্রকৃত আয় প্রায় অপরিবর্তিত থাকায় দৈনন্দিন জীবনের খরচ বহন করতে সাধারণ মানুষ দারুণ কষ্টে পড়ছেন। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এবং জনগণকে স্বস্তি দিতে নতুন সরকারের জন্য এটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো–এর তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশে। এটি নভেম্বরের ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশের তুলনায় সামান্য কম হলেও জনগণের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ কমেনি। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসলে দৈনন্দিন জীবনের ব্যয় হ্রাস করা এবং বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা কঠিন হবে।

    রপ্তানি বৃদ্ধিকে পুনঃসক্রিয় করা

    বিদেশি মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস রপ্তানি খাত গত পাঁচ বছরে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির সম্মুখীন হয়েছে। যদি এই পতন দীর্ঘায়িত হয়, তবে দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ বেড়ে যাবে, কারণ রপ্তানি খাত সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ দেয়। নতুন সরকারের জন্য তাই রপ্তানি পুনরুজ্জীবিত করা এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এটি প্রতিযোগিতা পুনঃস্থাপন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর নীতিমালা গ্রহণকে জরুরি করে তোলে।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ০.৫ শতাংশ কমে ৪.৪১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৪.৪৩ বিলিয়ন ডলার। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ের হিসাব অনুযায়ী, রপ্তানি আয় ১.৯৩ শতাংশ কমে ২৮.৪১২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের ২৮.৯৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় কম।

    বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি–এর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, “রপ্তানি বর্তমানে নেতিবাচক ধারায় যাচ্ছে, যা অর্থনীতির জন্য মোটেও শুভ লক্ষণ নয়। সরকার শপথ গ্রহণের পরপরই কার্যকর পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় মনোযোগ না দিলে দেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক ভোগান্তির মুখোমুখি হতে পারে এবং নির্ধারিত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হতে পারে।”

    রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা

    রাজস্ব আদায় লক্ষ্য পূরণের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় সরকারের ব্যয় বহনের সক্ষমতা বর্তমানে চাপের মুখে রয়েছে। যদি রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি না পায়, রাষ্ট্রীয় ব্যয় নির্বাহ নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হবে। তবে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি মূলত বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভরশীল। অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও বিনিয়োগ সচল না হলে রাজস্ব বৃদ্ধি করা কঠিন হয়ে যাবে।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড–এর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। এতে ৪৫ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকায়।

    অর্থনীতিবিদরা এবং ব্যবসায়ী মহল মনে করছেন, অপ্রত্যক্ষ কর বাড়ালে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাবে। তাই করজাল সম্প্রসারণ, ডিজিটালাইজেশন, কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি কমানো—এসব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি উন্নয়ন বাজেট অযথা বড় না করে চলমান প্রকল্প দ্রুত ও সাশ্রয়ীভাবে শেষ করার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    আর্থিক খাতের সুশাসন প্রতিষ্ঠা:

    রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের ব্যাংক খাতকে দিশাহীন অবস্থায় পৌঁছে দিয়েছে। তার প্রভাব লক্ষ্যণীয়—অপরিশোধিত ঋণ (এনপিএল) আকাশছোঁয়া বৃদ্ধি পেয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ব্যাংক খাতে এনপিএল প্রায় ৩৬ শতাংশ বা ৬.৪৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে থাকলেও, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর কিছু সংস্কার কার্যকর হয়েছে, যার ফলে খাতটি অর্থপাচার রোধে সক্ষম হয়েছে।

    সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ–এর সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল না করলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব নয়।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রথমেই আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

    দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থান:

    নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত কয়েক বছরে নতুন বিনিয়োগ ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাবে কিছু বিদ্যমান কর্মসংস্থানও হারিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ফলস্বরূপ দারিদ্র্যের হার বেড়েছে।

    পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার–এর সাম্প্রতিক জাতীয় গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২৭.৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তুলনামূলকভাবে, ২০২২ সালে হার ছিল ১৮.৭ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো–এর তথ্য অনুযায়ী, চরম দারিদ্র্যের হার বেড়ে ৯.৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা আগে ছিল ৫.৬ শতাংশ।

    নতুন সরকারের জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে—নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি। অন্যথায় পর্যাপ্ত চাকরি ও আয়বর্ধক সুযোগের অভাবে সামাজিক অস্থিরতা এবং অপরাধপ্রবণতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।

    বাজেট ঘোষণা:

    নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য একটি বৃহৎ বাজেট ঘোষণা করা হবে। গত অর্থবছর ২০২৫-২৬-এর জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা বাজেট ঘোষণা করেছিল। নতুন সরকারের জন্য বাজেট প্রণয়ন শুধু তহবিল পরিচালনার প্রশ্ন নয়, বরং জনগণের আশা ও প্রত্যাশা পূরণের একটি সুযোগ। নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতিশীল খাতগুলোতে বরাদ্দ ঠিকঠাক দেওয়া নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

    অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মন্তব্য করেন, “শপথ গ্রহণের পর নতুন সরকারের জন্য জনগণের প্রত্যাশা প্রতিফলিত এমন বাজেট প্রণয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে তহবিল ব্যবস্থাপনা ও অর্থ সংগ্রহই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।” তিনি আরও বলেন, অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে বরাদ্দ দিলে জনগণ দৃশ্যমান পরিবর্তন অনুভব করতে পারবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ও রপ্তানি খাত:

    ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে থেকে উত্তরণের পথে। এর ফলে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, যা রপ্তানি খাতে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ব্যবসায়ীরা উত্তরণের সময়সীমা কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার দাবি তুলছেন, যা সরকার বিবেচনা করতে পারে।

    বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত, যা মোট রপ্তানির প্রায় ৮৩ শতাংশ জোগান দেয়, সেটিকে বৈচিত্র্যময় ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এলডিসি উত্তরণের প্রভাব কমাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা এবং বাণিজ্য চুক্তিতে বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন। প্রধান রপ্তানি গন্তব্যের সঙ্গে সমঝোতা ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ/এফটিএ) সম্পাদনের মাধ্যমে শুল্ক সুবিধা আংশিকভাবে ধরে রাখা এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো যেতে পারে। একই সঙ্গে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ সংস্কারের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জকে সুযোগে রূপান্তর করার ওপর নতুন সরকারের গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

    কূটনীতির সমস্যাসমূহ:

    কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কিছুটা দুর্বল হয়ে ছিল। নির্দিষ্ট কিছু দেশের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগও উঠেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে নীতিমালা এখনও সুসংহত হয়নি; বরং কিছু ক্ষেত্রে আরও অবনতির লক্ষণ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষার জন্য পররাষ্ট্রনীতিতে দ্রুত, সুপরিকল্পিত ও ভারসাম্যপূর্ণ সংস্কার গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

    সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ মনে করেন, নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ভারতের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা। আগের সরকারের সময়ে অনেক সম্পর্ক স্থবির হয়ে গিয়েছিল, তাই সেগুলো নতুনভাবে সক্রিয় করা প্রয়োজন। তবে বেশিরভাগ সহযোগী দেশের সঙ্গে যোগাযোগ আগে থেকেই রয়েছে, ফলে শুরুটা একেবারে শূন্য থেকে করতে হবে না।

    তিনি বলেন, ঠাণ্ডা মাথা ও সতর্ক কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের নীতিনির্ধারণে অনিশ্চয়তা আছে। এই ক্ষেত্রে বহুপাক্ষিক সংলাপ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কূটনৈতিক চ্যানেল সক্রিয় রাখা জরুরি। সাম্প্রতিক চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করে ইতিবাচক দিক কাজে লাগানো এবং নেতিবাচক অংশ সংশোধনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

    এছাড়া রাশিয়া, চীন ও জাপানসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্কও নতুন করে গতিশীল করা প্রয়োজন। মুন্সি ফয়েজ আহমেদ মনে করেন, ভারসাম্যপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ এবং বাস্তবমুখী কূটনীতি অনুসরণ করলে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    বিশ্বব্যাপী ন্যায়বিচারের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও আলবানিজের কূটনৈতিক সংঘর্ষ

    February 15, 2026
    অর্থনীতি

    অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে

    February 15, 2026
    অর্থনীতি

    অংশগতভাবে বাংলাদেশ শীর্ষে থাকলেও আমদানি বৃদ্ধির গতি ধীর

    February 15, 2026
    Leave A Reply Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইরাকে নতুন আইন নিয়ে উদ্বেগ, শাস্তির ভয় সবার মনে

    আন্তর্জাতিক August 4, 2025

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক October 30, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত January 13, 2025

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি October 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.