চলতি মাসের প্রথম ১৮ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২১৩ কোটি ডলার, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ১২ কোটি ডলারের সমতুল্য। এই ধারা অব্যাহত থাকলে, মাস শেষ হওয়ার আগেই রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ছাড়াতে পারে। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা ধারাবাহিকভাবে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে একই সময়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে ১৬৭ কোটি ডলার। এ হিসেবে এবার রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪৬ কোটি ডলার, যা ২৭.৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত রেমিট্যান্স ২,১৫৬ কোটি ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১,৭৬৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ এই সময়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৯৩ কোটি ডলার, যা ২২.২৯ শতাংশ। তবে, গত অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছিল ৬৪২ কোটি ডলার বা ২৬.৮৩ শতাংশ।
দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স ৩৩০ কোটি ডলার এসেছে গত বছরের মার্চে, যা মূলত রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে পাঠানো হয়েছিল। এরপর ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে নির্বাচন এবং রোজার সময়কালকে উল্লেখ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থ পাচার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থানের ফলে হুন্ডি প্রবণতা কমেছে। ফলে বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বেড়ে গেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়ে গত বৃহস্পতিবার গ্রস ৩৪.৭৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত ৩৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

