বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বর্তমানে দেশের অর্থনীতি প্রায় ৪৬০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বছরে প্রায় ৯ শতাংশের উন্নয়ন দরকার। তবে টাইম ম্যাগাজিনের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেশে এটি অর্জন করা কঠিন চ্যালেঞ্জ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরিদ এরকিজিয়া বখতের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি শিক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে ০.৭৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ করার অঙ্গীকার করেছে। তবে এই প্রয়াস বাস্তবায়নের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য রাজস্ব সংগ্রহের পরিকল্পনা নেই। বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৩ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশ বাড়ানো না গেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্বিগুণ করা সম্ভব হবে না।
গত দেড় বছর ধরে উচ্চ সুদের হার ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের সমালোচনার মুখে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মুদ্রানীতি নয় বরং খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মূল কারণ হলো বণ্টন ব্যবস্থার বাধা। এটি সরকারের সবচেয়ে দুর্বল দিক।
অর্থনীতিতে কৃষির অবদান ১২ শতাংশ এবং দেশে প্রায় ৪৪ শতাংশ জনবল কৃষির সঙ্গে যুক্ত। শহরে খাদ্যপণ্যের দাম কমাতে এবং প্রান্তিক কৃষকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর খামার থেকে শহর পর্যন্ত বিস্তৃত মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকদের ঠকানোর পাশাপাশি বাজারে দাম বাড়াচ্ছে। এছাড়া ফসল কাটার পরবর্তী লজিস্টিক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হলে সরকার সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হবে।
প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্সও দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করেন। সাম্প্রতিক তিন মাসে তারা প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা আইএমএফের সহায়তার সমপরিমাণ। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হুন্ডি ব্যবস্থায় শিথিলতা থাকায় অনেক শ্রমিক বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে শুরু করেন। এর ফলে রেমিট্যান্স ২০২৩ সালের ২১ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৫ সালে ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে চাকরির জন্য যান। এটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে, বিশেষ করে নতুন কর্মসংস্থানের চাহিদা পূরণে। তবে শ্রম রপ্তানি খাতে দুর্নীতি ও শোষণ এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। কয়েকটি গন্তব্য দেশ ইতোমধ্যেই বাংলাদেশিদের জন্য দরজা বন্ধ করেছে, ফলে নতুন কর্মসংস্থান মূলত সৌদি আরবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
অর্থনীতিবিদ খান আহমেদ সাঈদ মুরশিদ মন্তব্য করেছেন, বিএনপির উচিত বড় পরিকল্পনার মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ছোট কিন্তু উচ্চ-প্রভাবশালী প্রকল্প নেওয়া। নতুন প্রশাসনকে শিল্পকারখানার জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

