ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের ফলে আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ড বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে।
সূত্রের খবর, গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় ঘোষিত রায়ে এ নির্দেশ জানানো হয়। বিরোধটি বেবিচক ও বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি) এর মধ্যে দেনা-পাওনা সংক্রান্ত ছিল। মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির তিন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত সালিশি বোর্ড উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে রায় প্রদান করেছে।
রায়ে বলা হয়েছে, এডিসিকে এপিসিএস-৪৮ (সম্পূর্ণ) ও ৫২-৫৪ শিরোনামের কাজের বিপরীতে ৫৮৯ কোটি ৮৬ লাখ ৯৯ হাজার ৭৩ জাপানি ইয়েন এবং ২৭২ কোটি ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩৩১ টাকা পরিশোধ করতে হবে। রিটেনশন মানির দ্বিতীয় অংশ হিসেবে আরও ৬০২ কোটি ৭৭ লাখ ১৭ হাজার ৬৯৭ টাকা এবং ৪০০ কোটি ৪২ লাখ ৩৩ হাজার ৫২৭ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিলম্বিত ও অপরিশোধিত অর্থ এবং রিটেনশন মানি ছাড়ের কারণে সৃষ্ট অর্থায়ন চার্জ হিসেবে গত ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ কোটি ২৯ লাখ ৭১ হাজার ১৯১ জাপানি ইয়েন এবং ২৯ কোটি ৯৫ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪৫ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, কাজের পরিধি বৈধভাবে বৃদ্ধি করা হয়নি এবং ডিএনপি চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি শেষ হয়েছে। তাই চুক্তি অনুযায়ী পারফরম্যান্স সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় এখনও আসে নি। এ কারণে এডিসির পারফরম্যান্স সিকিউরিটি ফেরত দেওয়ার আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
সালিশি বোর্ড জানিয়েছে, অ্যাডজুডিকেশন পদ্ধতির ব্যয় নির্ধারণে বেবিচকের কোনো এখতিয়ার নেই। রায় উভয় পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে, যদি না পারস্পরিক সমঝোতা বা চূড়ান্ত সালিশি পুরস্কারের মাধ্যমে পরিবর্তন হয়। বেবিচকের কর্মকর্তারা জানান, রায়ের বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, জাপানের মিৎসুবিশি করপোরেশন ও ফুজিটা করপোরেশন, এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সি অ্যান্ড টি করপোরেশন যৌথভাবে অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি) গঠন করে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজে অংশগ্রহণ করেছে।

