বৈশ্বিক বাণিজ্যের নীতিগত ও আইনগত কাঠামোয় নীরবে কিন্তু গভীর পরিবর্তন চলছে। বাইরে থেকে দৃশ্যমান না হলেও এর প্রভাব বিস্তৃত। আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কহার আগের তুলনায় কমেছে। অনেক ক্ষেত্রেই তা এখন স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে। ফলে বাণিজ্যের পুরোনো হিসাব–নিকাশ বদলে যাচ্ছে।
তবে শুধু শুল্ক কমলেই বাণিজ্য সহজ হয় না। একই সঙ্গে নতুন এক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। টেকসই উন্নয়নভিত্তিক উৎপাদন, প্রযুক্তিগত মানোন্নয়ন, কঠোর বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এবং বেসরকারি সনদ এখন বাজারে প্রবেশের প্রধান নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে। এগুলো শুল্কের বিকল্প নয়। বরং শুল্কের পাশাপাশি সমান্তরালভাবে কাজ করছে। অর্থাৎ শুল্ক কমলেও বাজারে প্রবেশের পথ সহজ হয়নি। বরং মান ও বিধির নতুন দেয়াল তৈরি হয়েছে।
এই নীতিগত রূপান্তর দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এখন শুধু স্বল্প ব্যয়ের কৌশল যথেষ্ট নয়। কম খরচে উৎপাদন করে বাজার দখলের যে পথ এতদিন কার্যকর ছিল, তা দ্রুত সীমিত হয়ে আসছে।
বর্তমান বাস্তবতায় প্রতিযোগিতা নির্ভর করছে মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশ ও সামাজিক মানদণ্ড রক্ষা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ অর্জন—সবই এখন অপরিহার্য। এই মান নিয়ন্ত্রণ কাঠামো জটিল এবং ব্যয়বহুল কিন্তু এটিই বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়ানোর প্রধান উপায় হয়ে উঠেছে। ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যের নতুন যুগে বাংলাদেশের সামনে যেমন সুযোগ রয়েছে, তেমনি ঝুঁকিও কম নয়। নীতিগত প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং মানসম্মত উৎপাদন ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
গত শতকের নব্বই দশকের শেষ দিকে প্রযুক্তিনির্ভর মান নিয়ন্ত্রণের পরিধি ছিল সীমিত। তখন যেকোনো পণ্য বা সেবার মান যাচাইয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার ১৫ শতাংশেরও কম ছিল। তিন দশক পর সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন তা কয়েক গুণ বেড়ে প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের কাঠামোগত পরিবর্তনের এটিই বড় ইঙ্গিত।
তৈরি পোশাক খাতের একটি উদাহরণ বিষয়টি স্পষ্ট করে। কোনো রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান একটি বাজারে প্রবেশের অনুমতি পেতে এখন ছয় থেকে সাতটি প্রযুক্তিনির্ভর নীতিমালা পূরণ করে। দুই দশক আগে এত শর্ত ছিল না। অথচ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন–এর মতো উচ্চ আয়ের বাজারই বাংলাদেশের কিছু পণ্যের প্রধান রফতানি গন্তব্য। এসব বাজারে প্রবেশকে নিরাপদ ও টেকসই করতে নানা বিধি আরোপ করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—রফতানি পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা।
কিন্তু বাস্তবে বৈশ্বিক মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়েছে জটিল শর্তের জাল। একাধিক মানব্যবস্থা একই ধরনের পরিবেশ, শ্রম বা নিরাপত্তা বিষয় অন্তর্ভুক্ত করলেও প্রতিটির জন্য আলাদা নিরীক্ষা ও সনদ প্রয়োজন হয়। ফলে রফতানিকারকদের ওপর ব্যয় ও প্রশাসনিক চাপ বাড়ছে।
বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫–এর তথ্য বলছে, পাকিস্তানের একটি বস্ত্র প্রতিষ্ঠান বছরে ১৫টি টেকসই উন্নয়নসংক্রান্ত শর্ত পূরণে প্রায় ৭৫ হাজার ডলার ব্যয় করে। বাংলাদেশেও সনদ ব্যয় কম নয়। আইএসও ১৪০০১ পরিবেশগত সনদের খরচ শুরু হয় প্রায় ৪৫০ থেকে ৬০০ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ৫৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় আইএসও সনদ ফি ৮৭ ডলার বা ১০ হাজার টাকা, নবায়ন ফি ৪৩ ডলার বা ৫ হাজার টাকা এবং পরিদর্শন ফি ৩৫ ডলার বা সাড়ে ৪ হাজার টাকা।
দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের পুঁজিগত সক্ষমতা বিবেচনায় এসব ব্যয় অনেক সময় বহন করা কঠিন। এর প্রভাব দেখা যায় বাণিজ্য পরিসংখ্যানে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য ও কৃষিপণ্য প্রত্যাখ্যানের হার মোট রফতানিতে তাদের অংশের তুলনায় দুই থেকে চার গুণ বেশি। এই প্রত্যাখ্যান শুধু মান অনুসরণে ব্যর্থতার ফল নয়। এর পেছনে রয়েছে গভীর কাঠামোগত সংকট।
স্বীকৃত পরীক্ষাগারের অভাব, প্রশিক্ষিত নিরীক্ষকের ঘাটতি এবং বিশ্বাসযোগ্য সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে সীমিত প্রবেশাধিকার—সব মিলিয়ে রফতানিকারকদের সামনে বাধা তৈরি হয়েছে। সুযোগের সীমাবদ্ধতার কারণেই অনেক প্রতিষ্ঠান স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অংশ নিতে পারছে না। বৈশ্বিক মান কাঠামোর সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে এই চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে।
দক্ষিণ এশিয়ার রফতানি প্রক্রিয়া ও পণ্যের মানোন্নয়নে অগ্রগতি থমকে গেছে—এটাই এখন বড় উদ্বেগ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল–এর রফতানি মান সূচক বলছে, ১৯৬০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে এ অঞ্চলের অগ্রগতি ছিল বিস্ময়কর। দ্রুতই উন্নত অর্থনীতির সঙ্গে ব্যবধান অনেকটাই কমে আসে।
কিন্তু ২০০০ সালের পর গতি কমতে শুরু করে। ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে রফতানি কাঠামোর মানে স্পষ্ট পতন দেখা যায়। উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান প্রায় অর্ধশত বছর আগের পর্যায়ে রয়ে গেছে। এ ধরনের বৈশিষ্ট্য সাধারণত সাব-সাহারান আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অঞ্চলের বাণিজ্যে দেখা যায়।
অন্যদিকে পূর্ব এশিয়ার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। চীন এবং কোরিয়া প্রজাতন্ত্র শিল্পায়ন কৌশলের অংশ হিসেবেই মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তারা গুণগত অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ করেছে। প্রযুক্তি স্থানান্তরে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগকে কাজে লাগিয়েছে। আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণকারী সংস্থাগুলোতেও সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছে। ফলে তাদের রফতানিপণ্যের মান ধারাবাহিকভাবে উন্নত হয়েছে। বিপরীতে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিক্রিয়া ছিল বিচ্ছিন্ন ও প্রতিক্রিয়াশীল। দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অভাবে অর্থনীতি নিম্নমানের এক ধরনের স্থিতাবস্থায় আটকে গেছে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক বাংলাদেশ এখনো মূলত মূল্যভিত্তিক প্রতিযোগিতা ও পশ্চিমা বাজারের বিশেষ সুবিধার ওপর নির্ভরশীল। বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনের সঙ্গে গভীর সংযোগ থাকলেও মানোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও সক্ষমতা পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। অভ্যন্তরীণ বাজারে ক্রয়ক্ষমতা না বাড়ায় উচ্চমানের পণ্যের চাহিদাও সীমিত। এতে স্থবিরতা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মান ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ দিন দিন তীব্র হচ্ছে। টেকসই উন্নয়নের মানদণ্ড এখন আর ঐচ্ছিক নয়। বাজারে প্রবেশের ন্যূনতম শর্তে পরিণত হয়েছে। যেমন মার্সিডিজ-বেঞ্জ ২০৩৯ সালের মধ্যে কেবল কার্বনমুক্ত অংশীদারদের কাছ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর ক্ষেত্রেও পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল শনাক্ত ও অনুসরণযোগ্য করার শর্ত ক্রমেই বাড়ছে।
বাংলাদেশের পোশাক খাতে ৪০ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। দেশের মোট রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে এই খাত থেকে। ফলে এটি একই সঙ্গে বড় সুযোগ ও বড় ঝুঁকির উৎস।
বেটার ওয়ার্ক কর্মসূচি এবং ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি অ্যাকর্ড দেখিয়েছে, সমন্বিত শিল্পভিত্তিক উদ্যোগ মানোন্নয়নের বিচ্ছিন্ন শর্তগুলোকে এক ছাতার নিচে আনতে পারে। একই সঙ্গে কারখানা পর্যায়ে কার্যকর মানানুবর্তিতা গড়ে তোলাও সম্ভব। তবে এসব উদ্যোগের সঙ্গে আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন জড়িত। বিতর্কের কেন্দ্রে থাকে—নিয়ম নির্ধারণের ক্ষমতা কার হাতে, বাস্তবায়ন করবে কারা, এবং এতে কার কী স্বার্থ জড়িত।
রফতানি ব্যবস্থাপনায় উত্তর আফ্রিকার তিউনিসিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। দেশটির যানবাহনের যন্ত্রাংশ শিল্পে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে আন্তর্জাতিক মান, পরিবেশগত বাধ্যবাধকতা, শ্রম অধিকার এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যকে উৎপাদন ব্যবস্থার অংশ করেছে। এজন্য তারা দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলেছে। অবকাঠামো মজবুত করেছে। কারিগরি সক্ষমতা ও প্রশাসনিক সমন্বয় নিশ্চিত করেছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতাও জোরদার করেছে।
ফলে তিউনিসিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শুধু মুনাফা নিয়ে যায়নি। তারা বিপণন ও মানোন্নয়ন প্রক্রিয়াতেও ভূমিকা রাখতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ ও শিল্প সংগঠনের সম্পৃক্ততা বাড়ছে। কিন্তু তিউনিসিয়ার মতো শক্ত মান অবকাঠামো বা কৌশলগত সক্ষমতা এখনো তৈরি হয়নি। অর্থনীতির আকার বিবেচনায় এ পিছিয়ে থাকা প্রশ্ন তোলে।
বাণিজ্য ঝুঁকি শুধু তৈরি পোশাক বা প্রচলিত শিল্পে সীমাবদ্ধ নয়। ফাইভজি প্রযুক্তি, ডিজিটাল লেনদেন, সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মানদণ্ড এখন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভাবতে হবে। এই মানদণ্ডই ভবিষ্যৎ বিশ্ববাজারে অবস্থান নির্ধারণ করবে।
সমস্যা হলো, উন্নয়নশীল দেশগুলো এখনো প্রযুক্তির ভোক্তা হিসেবেই বেশি পরিচিত। উদ্ভাবক হিসেবে অবস্থান শক্ত হয়নি। ভারত তাদের ইউপিআই ও আধার ব্যবস্থার মাধ্যমে দেখিয়েছে, পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে উন্নয়নশীল দেশও নিজস্ব মানদণ্ড তৈরি করতে পারে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলো সে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়নি বা অনুসরণ করতে পারেনি।
ফলে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। প্রযুক্তিগত মান একবার নির্ধারিত হলে তা মাধ্যাকর্ষণের মতো কাজ করে। সবাইকে সেই কাঠামো মেনে চলতে হয়। দক্ষিণ এশিয়াকে বাদ দিয়ে মানদণ্ড নির্ধারণ হলে স্থানীয় ভাষা, বাস্তবতা ও উন্নয়ন অগ্রাধিকার উপেক্ষিত থাকার ঝুঁকি বাড়ে। বাংলাদেশের জন্য তাই স্পষ্ট বার্তা—মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও কৌশলগত প্রস্তুতি ছাড়া আগামী দিনের বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক সংকটের শিকড় অনেকটাই অভ্যন্তরীণ বিভক্ততায়। ঐতিহাসিক বাস্তবতা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় টানাপড়েন, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং বাণিজ্যের চেয়ে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা এ অঞ্চলকে যৌথ অগ্রযাত্রা থেকে দূরে রেখেছে। তুলনায় চিত্র ভিন্ন আসিয়ান–এ। সেখানে সদস্য দেশগুলোর মোট বাণিজ্যের ৩০ শতাংশের বেশি হয় নিজেদের মধ্যেই। দক্ষিণ এশিয়ায় এ হার মাত্র ৫ শতাংশ। আঞ্চলিক সংযোগের এ দুর্বলতাই প্রতিযোগিতায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
করণীয় বিষয়গুলো স্পষ্ট। প্রথমত, সরকারকে আগেভাগেই বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। মানসম্পন্ন পরীক্ষাগার, শক্তিশালী মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত নিরীক্ষক এবং সহায়ক প্রশাসনিক ও কারিগরি অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। পরিবেশবান্ধব টেকসই কাঠামোও নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক মানের সনদ পেতে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সুবিধা ও দলগত সার্টিফিকেশনের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। এতে ব্যয় কমবে এবং অংশগ্রহণ বাড়বে।
তৃতীয়ত, সার্ক ও বিমসটেক–এর মতো আঞ্চলিক জোটকে কার্যকর করতে হবে। ভূরাজনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে মানদণ্ড একীভূত করা গেলে খরচ কমবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক আলোচনায় দক্ষিণ এশিয়ার সম্মিলিত অবস্থান শক্ত হবে।
চতুর্থত, রফতানিসম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু নিয়ম মানলেই হবে না। নিয়ম তৈরির টেবিলেও থাকতে হবে।
বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫ সতর্ক করেছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে উন্নয়নের সিঁড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ যে পথ ধরে ধনী দেশগুলো এগিয়েছে, সে পথ এখন দরিদ্র দেশের জন্য সংকুচিত। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এ বার্তা বাস্তব।
বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে কেবল অনুসারী হিসেবে টিকে থাকার সময় শেষ। টেকসই উন্নয়নের মানদণ্ড গঠনে সক্রিয় ভূমিকা না নিলে উচ্চমূল্যের বাণিজ্য থেকে এ অঞ্চল দীর্ঘমেয়াদে ছিটকে পড়বে। নীতি কাঠামো ও সফল দৃষ্টান্ত—দুইই সামনে আছে। ঘাটতি এক জায়গায়। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং বাস্তবায়নের গতি। এ অনাগ্রহ দীর্ঘ হলে দেশি-বিদেশি ঋণসহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা আরও বাড়বে। তখন উন্নয়নের পথ হবে আরও কঠিন।

