মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে দেশে প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল বহু পরিবারের মাসিক বাজেট চাপে পড়েছে। রেমিট্যান্স কমে গেলে খরচ চালানো কঠিন হতে পারে। তাই এখনই বিকল্প সঞ্চয় ও জরুরি তহবিল গঠন করা এবং অন্যান্য কৌশল তৈরি করা বুদ্ধিমানের কাজ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওঠানামার কারণে প্রবাসী আয়ের ধারা অনিয়মিত হয়ে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থান, মজুরি বা কাজের ঘণ্টা কমলে সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশে থাকা পরিবারের নগদ প্রবাহে। বিশেষ করে যারা একমাত্র প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ঝুঁকি অনেক বেশি। রেমিট্যান্স স্বাভাবিক থাকলেও আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়াই নিরাপদ। আয় কমলে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে পূর্বপরিকল্পনা থাকলে পরিবার আর্থিক ধাক্কা সহজে সামলাতে পারে। নিচে এমন কিছু কৌশল দেখানো হলো যা এখনই গ্রহণ করা যেতে পারে:
১. খরচের তালিকা পর্যালোচনা: পরিবারের স্থায়ী ও অস্থায়ী ব্যয় আলাদা করুন। বাড়িভাড়া, শিক্ষা, ওষুধ—এসব অগ্রাধিকার ব্যয়। ভ্রমণ, উৎসব বা অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা সাময়িক স্থগিত রাখুন। অন্তত তিন মাসের ন্যূনতম খরচ হিসাব করে সেই অনুযায়ী ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
২. জরুরি তহবিল গঠন: মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা নিশ্চিত নয়। তাই তিন থেকে ছয় মাসের সমপরিমাণ খরচ জমানোর জন্য আলাদা তহবিল করুন। একবারে সম্ভব না হলে প্রবাসী আয়ের ১০–১৫ শতাংশ ধাপে ধাপে জমিয়ে নেওয়া যেতে পারে। ব্যাংক হিসাবে বা স্বল্পমেয়াদি সঞ্চয়পত্রে রাখলে হঠাৎ খরচ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি পরিবার মাসে ৫০ হাজার টাকা প্রবাসী আয় পায় এবং ন্যূনতম ব্যয় ৩৫ হাজার টাকা হয়, তবে তিন মাসের জরুরি তহবিল হিসেবে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা লক্ষ্য রাখা যেতে পারে। প্রতি মাসে মাত্র ৭ হাজার টাকা আলাদা করলে এক বছরে এ লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।
৩. একমাত্র উৎসের ওপর নির্ভরতা কমান: পুরোপুরি প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। পরিবারের অন্য সদস্যরা আংশিক আয় করতে পারেন কি না, তা দেখুন। ঘরে বসে কাজ, ছোট ব্যবসা বা দক্ষতাভিত্তিক সেবা আংশিক আয়ের উৎস হতে পারে এবং মাসিক ঘাটতি সামলাতে সহায়ক হবে।
৪. ঋণের চাপ কমান: উচ্চ সুদের ব্যক্তিগত ঋণ বা ক্রেডিট কার্ড থাকলে প্রথমে তা পরিশোধের পরিকল্পনা করুন। সুদের বোঝা কমলে নগদ প্রবাহে স্বস্তি আসবে এবং জরুরি পরিস্থিতি সামলানো সহজ হবে।
৫. প্রবাসীর সঞ্চয় ব্যবহার পরিকল্পনা: প্রবাসফেরতের ঝুঁকি মাথায় রেখে সঞ্চয় পুরোটা একবারে খরচ না করে ভাগ করুন। একটি অংশ জরুরি তহবিল, একটি অংশ আয়বর্ধক বিনিয়োগ, এবং বাকি অংশ নিরাপদ আমানতে রাখুন। ঝুঁকি বুঝে নিলে সিদ্ধান্ত নিরাপদ হবে। পরিশেষে বলা যায়, অস্থির পরিস্থিতিতে আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়াই পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

