নবনির্বাচিত সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানিয়েছেন, উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়াতে রাজস্ব নীতিতে মৌলিক সংস্কার আনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী এক দশকের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ বুধবার (৪ মার্চ) গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘উন্নয়নে নজর: স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে নবনির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. তিতুমীর বলেন, টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। সে লক্ষ্যে কর কাঠামোকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করা হবে। রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও জোরদার করা হবে।
আলোচনায় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিও উঠে আসে। সিপিডির পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও তা খুব ধীরগতিতে নামছে। অন্যদিকে মজুরি বৃদ্ধির হার প্রায় স্থির রয়েছে। এই বৈষম্য নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঋণ খেলাপির হার কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক অধ্যাদেশে যে সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানো হবে কি না, এই বিতর্কের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো উত্তরণের জন্য প্রস্তুতি জোরদার করা। একটি কার্যকর ও ‘স্মুথ ট্রানজিশন’ কৌশল বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

