২০২৬ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই মুদ্রণ ও বিতরণ কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সংস্থাটির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত গড়ে ৮৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ পাঠ্যবই সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এনসিটিবি জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৩০ কোটি ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৪টি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যের ভিত্তিতে মুদ্রণ ও সরবরাহ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে।
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ৮ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার ৮৮০টি পাঠ্যবই শতভাগ মুদ্রণ শেষ করে মহান বিজয় দিবসের আগেই দেশের সব সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ জানুয়ারিতেই প্রাথমিক স্তরের সব শিক্ষার্থী বই হাতে পায়। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পাঁচটি ভাষায় মুদ্রিত পাঠ্যবইও সময়মতো শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে।
এ ছাড়া ইবতেদায়ি ও ব্রেইল পদ্ধতির পাঠ্যবই সরবরাহ কার্যক্রমও প্রায় সম্পন্নের পথে রয়েছে। এনসিটিবির আশা, খুব শিগগিরই এ দুটি স্তরের বই বিতরণ শতভাগ শেষ হবে।
মাধ্যমিক পর্যায়ে—বিশেষ করে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি এবং ইবতেদায়ি স্তরের জন্য নির্ধারিত ২১ কোটি ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ২৭৪টি পাঠ্যপুস্তকের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। পরিসংখ্যান বলছে, এ স্তরের বইয়ের মধ্যে ৮৮ দশমিক ৫০ শতাংশ মুদ্রণ, ৮১ দশমিক ৬০ শতাংশ প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন (পিডিআই) এবং ৭৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ সরবরাহ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
শ্রেণিভিত্তিক অগ্রগতির চিত্রে দেখা যায়, ইবতেদায়ি স্তরে ৯৬ দশমিক ১৬ শতাংশ, নবম শ্রেণিতে ৮৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৮৫ দশমিক ৬১ শতাংশ, সপ্তম শ্রেণিতে ৬৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং অষ্টম শ্রেণিতে ৫৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ পাঠ্যবই ইতোমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে।
পাঠ্যবই প্রাপ্তির সুযোগ আরও সহজ করতে এনসিটিবি তাদের ওয়েবসাইটে সব স্তরের ৬৪৭টি পাঠ্যবইয়ের অনলাইন সংস্করণ আপলোড করেছে। এসব বই ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশ করা হয়, যা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য বিকল্প প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করছে।
যদিও মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, তবে সঠিক পরিকল্পনা ও নিবিড় তদারকির মাধ্যমে কাজের গতি বজায় থাকলে আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই মাধ্যমিক ও কারিগরি স্তরের অবশিষ্ট সব পাঠ্যবই সরবরাহ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।

