ব্রাজিলের এক তরুণ ইনফ্লুয়েন্সার রাভেনা হানিলি সম্প্রতি তার ভার্জিনিটি ফিরে পেতে ১৯ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা খরচ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্কতা সত্ত্বেও তিনি এই ব্যয়বহুল এবং বিতর্কিত অপারেশন করানোর সিদ্ধান্তে অটল। বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের মাধ্যমে আলোচনায় আসে।
২৩ বছর বয়সী রাভেনা তার অভিজ্ঞতা ও ভাবনা প্রকাশ করতে গিয়ে জ্যাম প্রেসকে জানান, “পুনরায় ভার্জিনিটি ফিরে পাওয়ার বিষয়টি আমার জন্য বিশেষ অর্থ বহন করে।” ব্যক্তিগত জীবনে এখনও অবিবাহিত হানিলি মনে করেন, এটি তার মানসিক এবং শারীরিক জীবনে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
ভার্জিনিটি ফিরে পাওয়ার এ পদ্ধতিকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ‘হাইমেন মেরামত বা হাইমেনোপ্লাস্টি’ বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিশেষজ্ঞ সার্জন হাইমেনের ছিঁড়ে যাওয়া অংশগুলো একত্রে সেলাই করে এমনভাবে পুনঃস্থাপন করেন যাতে শারীরিক সম্পর্কের সময় রক্তপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটি এমন একটি অবস্থা তৈরি করে যা প্রথমবার শারীরিক সম্পর্কের অভিজ্ঞতার সাথে মিল খায়।
হানিলি বলেন, “হাইমেনোপ্লাস্টি শুধুমাত্র শারীরিক সৌন্দর্যের ব্যাপার নয়, এটি মানসিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। একজন নারী কিভাবে নিজেকে অনুভব করেন এবং তিনি নিজের জন্য কী চান, তার সাথেও এটি সম্পর্কিত। আমার জন্য এটি আমার আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনের একটি ধাপ।”
নিজের পেশাগত জীবনে রাভেনা হানিলি ইতোমধ্যেই আলোচিত। তার ইনস্টাগ্রামে প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার উত্তেজক ছবি শেয়ার করা হয়েছে, যা তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তিনি মনে করেন, এই অস্ত্রোপচার তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
“এই অপারেশনটি আমার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি এমন একটি ব্যক্তিগত কারণের সাথে সম্পর্কিত যা সবসময় আমার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে,” যোগ করেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই ধরণের অস্ত্রোপচারে শারীরিক ও মানসিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া এর নৈতিক ও সামাজিক দিক নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।
রাভেনার এই সিদ্ধান্ত আধুনিক সমাজে নারীর আত্মপরিচয়, ব্যক্তিগত ইচ্ছা এবং শারীরিক সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। তার পদক্ষেপ নারীর নিজস্ব শরীরের ওপর অধিকারের প্রতি এক ধরণের সাহসী বার্তা হলেও, এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কেমন হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

