৯৭তম অস্কারে সেরা ডকুমেন্টারির পুরস্কার জিতেছে ফিলিস্তিনি আন্দোলনকারীদের সংগ্রামের গল্প নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘নো আদার ল্যান্ড’। এটি ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ধারণ করা হয়েছে এবং মূলত ফিলিস্তিনি অ্যাক্টিভিস্ট বাসেল আদ্রার ব্যক্তিগত ক্যামকর্ডার ফুটেজের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
ডকুমেন্টারিটি পশ্চিম তীরের দক্ষিণ অংশের মাসাফের ইয়াত্তা অঞ্চলের গল্প তুলে ধরে, যেখানে ইসরায়েলি সেনারা সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ফিলিস্তিনিদের বসতবাড়ি ধ্বংস করছে। আদ্রা, যিনি একজন স্থানীয় ফিলিস্তিনি, তার শহরের ধ্বংসযজ্ঞ নথিভুক্ত করার জন্য নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন।
চলচ্চিত্রটিতে দেখা যায়, ইসরায়েলি বাহিনী গ্রামটির স্কুল গুঁড়িয়ে দিচ্ছে এবং পানির কূপগুলো সিমেন্ট দিয়ে বন্ধ করে দিচ্ছে, যাতে বাসিন্দারা পুনরায় বসতি স্থাপন করতে না পারে। আদ্রার পাশাপাশি ইসরায়েলি সাংবাদিক ইউভাল আব্রাহাম, ফিলিস্তিনি পরিচালক হামদান বালাল ও ইসরায়েলি পরিচালক রাচেল সোর্জও এই ডকুমেন্টারিতে কাজ করেছেন।
অস্কার গ্রহণের সময় আদ্রা বলেন, “প্রায় দুই মাস আগে আমি বাবা হয়েছি, এবং আমার একমাত্র আশা আমার মেয়ে যেন আমার মতো জীবন না কাটায়, যেখানে প্রতিনিয়ত দখলদারদের আক্রমণ, সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির শিকার হতে হয়।”
অন্যদিকে, ইউভাল আব্রাহাম বলেন, “আমি বাসেলের দিকে তাকিয়ে দেখি আমার ভাই। কিন্তু আমরা সমান নই। আমি একজন ইসরায়েলি হিসেবে স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারি, কিন্তু বাসেল সামরিক আইনের অধীনে, যেখানে তার কোনো স্বাধীনতা নেই।”
‘নো আদার ল্যান্ড’ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হলেও যুক্তরাষ্ট্রে এটি কোনো বিতরণকারী পায়নি। এমনকি বড় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলিও এখন পর্যন্ত এটি প্রচারের জন্য আগ্রহ দেখায়নি। যদিও এটি অস্কার মনোনীত ডকুমেন্টারিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় করেছে, তবু এটি যুক্তরাষ্ট্রের হলিউড ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের পক্ষপাতমূলক আচরণের শিকার হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন।
নির্মাতারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এটি স্বাধীনভাবে ১০০টিরও বেশি থিয়েটারে মুক্তি দেওয়া হবে, যাতে মানুষ চলচ্চিত্রটি দেখতে পারে।
এই প্রথমবারের মতো কোনো ফিলিস্তিনি চলচ্চিত্র অস্কার জিতেছে। এর আগে ২০০৬ সালে ‘প্যারাডাইস নাউ’ এবং ২০১৪ সালে ‘ওমর’ চলচ্চিত্র দুটি মনোনয়ন পেলেও জিততে পারেনি। এ বছর আরও দুটি ফিলিস্তিনি চলচ্চিত্র ‘ফ্রম গ্রাউন্ড জিরো’ এবং ‘অ্যান অরেঞ্জ ফ্রম জাফা’ সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিল, কিন্তু চূড়ান্ত মনোনয়ন পায়নি।
‘নো আদার ল্যান্ড’-এর জয় এমন এক সময়ে এলো, যখন গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে বহু ফিলিস্তিনি নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরায়েলকে এই সহিংসতার জন্য দায়ী করছে এবং এটিকে জাতিগত নিধন বলে অভিহিত করছে।
এই ডকুমেন্টারিটি নিছক একটি চলচ্চিত্র নয়, এটি ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘ সংগ্রামের এক হৃদয়বিদারক চিত্র, যা বিশ্ববাসীর কাছে তাদের দুঃখ-দুর্দশার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

