মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরও রূপালী পর্দায় সালমান শাহ এর উপস্থিতি এখনো দর্শকের মনে জীবন্ত। চার বছরের সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে তিনি হয়ে উঠেছিলেন নব্বইয়ের দশকের ঢাকাই সিনেমার নতুন ধারার প্রতীক। অকালপ্রয়াত এই নায়কের শেষ সিনেমা ‘বুকের ভেতর আগুন’-এর জন্য তিনি নিয়েছিলেন সে সময়ের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক- দুই লাখ টাকা।
সিনেমাটির পরিচালক ও প্রযোজক ছটকু আহমেদ জানিয়েছেন, ‘বুকের ভেতর আগুন’-এর প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সালমান শাহকে নেওয়া হয়েছিল সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকে। শাবনূরের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তবে ছবিটির শুটিং সম্পূর্ণ শেষ করার আগেই ঘটে যায় সালমানের আকস্মিক মৃত্যু। ফলে সিনেমার কিছু অংশে পরিবর্তন এনে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয় ফেরদৌস আহমেদকে। এক বছর পর ছবিটি মুক্তি পায় প্রেক্ষাগৃহে।
সালমান শাহ এর মৃত্যুর সময় তাঁর হাতে ছিল পাঁচটি চলমান সিনেমার কাজ- কোনোটির ডাবিং চলছিল, কোনোটির শুটিং শেষ পর্যায়ে, আবার কিছু কাজ ছিল মাঝপথে। মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ পর- ১৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় ছটকু আহমেদের আরেক সিনেমা ‘সত্যের মৃত্যু নেই’। নির্মাতাদের পরিকল্পনা ছিল সালমান শাহর জন্মদিনের ছয় দিন আগে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার, যা কার্যকরও হয়েছিল। কিন্তু সালমান ছিলেন না নিজের ছবি মুক্তির সেই আনন্দের সাক্ষী।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ছটকু আহমেদ বলেন, “সিনেমা মুক্তির দুই মাস আগেই প্রচারণার জন্য পোস্টার, ব্যানার ছাপিয়ে সারা দেশে পাঠিয়েছিলাম। সালমান নিজেও প্রমোশনে যাওয়ার শিডিউল দিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ তাঁর মৃত্যুর খবরে পুরো টিম স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।”
সালমানের মৃত্যুর পরের এক বছরজুড়ে মুক্তি পেয়েছিল তাঁর অভিনীত একাধিক সিনেমা- ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘আনন্দ অশ্রু’- যেগুলোর প্রতিটিই দর্শকের কাছে হয়ে উঠেছিল আবেগের প্রতিচ্ছবি। আর যেসব সিনেমা তিনি অসমাপ্ত রেখে গেছেন, সেগুলোতে অন্য শিল্পীদের সহযোগিতায় কাজ শেষ হলেও, পর্দায় প্রতিটি দৃশ্যে দর্শকেরা খুঁজে ফিরেছেন প্রিয় নায়ক সালমান শাহকেই।

