কাশ্মীরের গুলমার্গে বরফে মোড়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে এক ফ্যাশন শো আয়োজনকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নারী ও পুরুষ মডেলদের খোলামেলা পোশাক পরিধান এবং শো-এ প্রকাশ্যে মদ্যপানের দৃশ্য নিয়ে কাশ্মীরের স্থানীয় মুসলিম জনগণ ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রমজান মাসে এমন একটি আয়োজন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলে অনেকে মনে করছেন।
গত শুক্রবার বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ড শিভান ও নরেশ কাশ্মীরে তাদের প্রথম ফ্যাশন শো আয়োজন করে। এই শোটি ছিল কাশ্মীরে আয়োজিত প্রথম বড় ফ্যাশন শো, যেখানে অ-স্থানীয় ব্র্যান্ডও অংশ নেয়। তবে ফ্যাশন প্রকাশক এল ইন্ডিয়া যখন শো-য়ের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে, তখনই বিতর্ক শুরু হয়। ভিডিওতে কিছু মডেলকে বিকিনি বা অন্তর্বাস পরতে দেখা যায়, যা অনেকের কাছে অশ্লীল মনে হয়েছে। এছাড়া এক ম্যাগাজিনের একটি ভিডিও শো-এর পর একটি পার্টিতে প্রকাশ্যে মদ্যপানের দৃশ্যও ধরা পড়ে।
কাশ্মীরের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণসহ অনেক স্থানীয় ব্যক্তি এমন অনুষ্ঠানে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তারা এটি তাদের ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে দেখছেন। বেশ কিছু ধর্মীয় নেতা অনুষ্ঠানটিকে “অশ্লীল” এবং “সফট পর্ন” বলে অভিহিত করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, এটি কাশ্মীরের ঐতিহ্য ধ্বংস করার চেষ্টা।
বিতর্ক আরো বেড়ে যাওয়ার পর- এল ইন্ডিয়া এবং লাইফস্টাইল এশিয়া তাদের ভিডিওগুলো মুছে ফেলেছে। ফ্যাশন শো-এর ডিজাইনার শিভান ভাটিয়া ও নরেশ কুকরেজা এক যৌথ বিবৃতিতে নিজেদের উদ্দেশ্য সৃজনশীলতা উদযাপন করা ছিল, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া নয়- বলে জানিয়েছেন।
এ বিতর্ক কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভাতেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দল সরকারকে প্রশ্ন করেছে, কিভাবে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভূতিকে অবহেলা করে এই শো-এর অনুমতি দেওয়া হলো?
জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ সরকারকে এই বিষয়ে দায়মুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, শো-এর আয়োজন সম্পূর্ণ বেসরকারিভাবে করা হয়েছিল এবং সরকার এতে কোনোভাবে জড়িত ছিল না। তবে স্থানীয় প্রশাসনকে তদন্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আইন লঙ্ঘন হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফ্যাশন বিশেষজ্ঞ শেফালি বসুদেব মন্তব্য করেছেন, দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক স্থানে ফ্যাশন শো আয়োজন নতুন কিছু নয়, তবে তিনি জানান, এমন আয়োজনের আগে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী পোশাক সাধারণত রক্ষণশীল এবং তাই এমন খোলামেলা পোশাকের প্রদর্শন কাশ্মীরি সংস্কৃতির সঙ্গে পুরোপুরি বেমানান বলে অনেকের ধারণা।
কাশ্মীরের পর্যটন শিল্পের প্রসারে বহিরাগতদের আগমন বাড়লেও- অনেক কাশ্মীরি মনে করেন, তারা তাদের সংস্কৃতিকে যথাযথ সম্মান দিচ্ছে না। এই বিতর্কের মধ্য দিয়ে আবারো প্রমাণিত হলো যে, কাশ্মীরে যেকোনো সামাজিক বা সাংস্কৃতিক বিষয় রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়।

