দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রকস্টার নগরবাউল জেমস। তবে তার চোখেও আবেগের ছোঁয়া লাগে, বিশেষ করে মা–বাবার প্রসঙ্গ উঠলে। সম্প্রতি গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে এক আড্ডায় জীবনের নানা অধ্যায় নিয়ে কথা বলেন তিনি। শৈশব, কৈশোর, গান, দর্শন ও জীবনের পূর্ণতা-অপূর্ণতা নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে উঠে আসে তার মায়ের স্মৃতি- আর সেখানেই আবেগ চেপে রাখতে পারেননি জেমস, ছলছল করে ওঠে চোখ। সূত্র: প্রথম আলো
গায়ক হিসেবে জেমসের যাত্রা শুরু হয় ঘরের বাইরে। কারণ মা জাহানারা খাতুন ও বাবা মোজাম্মেল হক গানের জীবন চাননি। অভিমানে বাড়ি ছাড়েন জেমস। এরপর চট্টগ্রামের পাঠানটুলির আজিজ বোর্ডিংয়ের ৩৬ নম্বর কক্ষে শুরু হয় তার শিল্পীজীবনের পথচলা। অথচ তারকা খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছানো এই শিল্পীর সাফল্য দেখে যেতে পারেননি মা-বাবা কেউই।
জেমসের গান ‘মা’ ও ‘বাবা’– দুটি গানই তার আবেগের গভীরতম জায়গা থেকে উঠে এসেছে। কনসার্টে যখন হাজারো দর্শকের সামনে তিনি গাইতে শুরু করেন- “বাবা, কত দিন কত দিন দেখিনা তোমায়…” কিংবা “রাতের তারা, আমায় কি তুই বলতে পারিস, কোথায় আছে, কেমন আছে মা?”– তখন যেন হাজারো অনাথ সন্তানের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন তিনি।
আড্ডায় জানতে চাওয়া হয়, মায়ের হাতের রান্না কি এখনো মনে পড়ে? উত্তরে স্মৃতির সাগরে ভেসে গিয়ে জেমস বলেন, “তা তো মনে থাকবেই, ভুলে যাওয়ার কিছুই নেই। সব, সবকিছুই- মায়ের হাতের সব খাবার খুব মিস করি। মায়ের হাতের রান্না তো সবারই ভালো লাগে, এটা তো আর ভুলে যাওয়া যায় না।”
ব্যস্ত নগরজীবনের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে শহর ছাড়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন নগরবাউল। বলেন, “এখনো খুব ইচ্ছা আছে শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার। সব সময় মনে হয়, শান্ত কোথাও চলে যাই। নাগরিক জীবনের একটা দোটানা কাজ করে- এখানে থাকতে বিরক্ত লাগে, আবার দূরে গেলে মিস করি। শহর ছাড়তে চাই, আবার মনে হয় এ শহরই তো ডাকছে।”
গানের বাইরে একান্ত মুহূর্তে জেমসের এই ব্যক্তিগত অনুভূতিগুলো তার ভক্তদের কাছে তুলে ধরে এক মানবিক শিল্পীকে- যিনি শুধু কণ্ঠেই নয়, হৃদয়েও গান বুনে চলেছেন।

