ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া সিয়াম আহমেদ অভিনীত ‘জংলি’ সিনেমাটি বক্স অফিসে যেমন সাফল্যের মুখ দেখেছে, তেমনি দর্শকের হৃদয়েও ছাপ ফেলেছে গভীরভাবে। বাবা-মেয়ের সম্পর্কনির্ভর আবেগঘন গল্প, চরিত্রে সিয়ামের পরিশ্রম এবং পুরো টিমের নিবেদন মিলে ‘জংলি’ হয়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমধর্মী অভিজ্ঞতা।
সিয়াম বলেন, “আমি নিয়মিত অনেক চিত্রনাট্য পাই। চাইলে প্রচুর টাকা আয় করা সম্ভব। কিন্তু আমি অর্থের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিই দর্শকের প্রত্যাশাকে। আমি চাই, অল্প কিছু কাজ করি কিন্তু সেগুলো যেন আমার মতো করে হয়, মানসম্পন্ন হয়।” ‘জংলি’ সিনেমাটির পেছনে তিনি যে শ্রম দিয়েছেন, তা ছিল নিঃস্বার্থ। চরিত্রের জন্য চুল-দাড়ি বড় করা, প্রস্তুতিতে আত্মনিবেদন- সব কিছুতেই ছিল তার পরিপূর্ণ দায়বদ্ধতা।
পরিশ্রমের সেই ফল মিলেছে দর্শকপ্রতিক্রিয়ায়। ‘জংলি’ দেখে কেঁদেছেন দর্শকরা। অনেক মা-বাবার কাছে গল্পটি হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত। সিয়ামের ভাষায়, “আমি জানতাম সিনেমাটি মা-বাবাদের স্পর্শ করবে। কারণ এটি এমন এক গল্প, যেটি প্রথমেই ছুঁয়ে যায় সন্তানের মা-বাবাকে। আমার নিজের মা-বাবা সিনেমাটি দেখে ইমোশনাল হয়ে পড়েছিলেন।”
সিনেমাটি মুক্তির পর মাত্র ৮টি শো থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ত্রিশটির বেশি শো নিয়ে মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে দাপটের সঙ্গে চলছে ‘জংলি’। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ৪০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। আন্তর্জাতিক বক্স অফিসেও ভালো সূচনা করেছে ‘জংলি’- প্রথম তিন দিনে আয় করেছে ৩৫,০০০ ডলার। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টাইগার মিডিয়ার দাবি, সিনেমাটি ছয় কোটির গ্রস আয়ের ক্লাবে প্রবেশ করেছে।
‘জংলি’র গল্প যেমন দর্শককে আকৃষ্ট করেছে, তেমনি সিয়ামের অভিনয় প্রশংসা কুড়িয়েছে সর্বমহলে। বিশেষ করে বাবা-মেয়ের সম্পর্ক রূপায়ণে তার সংবেদনশীল অভিনয় দর্শককে ভাবিয়েছে। সিনেমাপ্রেমীদের ভাষায়, সিয়াম ‘নৈঋতার পাখি’ হয়ে উঠেছেন। সিনেমাটিকে আরও অনন্য করে তুলেছে সেই আবেগ- যা শুধুই গল্পে নয়, অভিনেতার বাস্তব জীবনেও অনুরণিত।
অভিনয় ক্যারিয়ারে নিজের পথচলা নিয়ে সিয়াম বলেন, “আমার যাত্রা শুরু ‘দহন’ দিয়ে। তখনকার আমি তরুণ ছিলাম, এখনকার আমি এক বাবা। আমি সব সময় নিজের আগের কাজকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। নিজেকেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবি।”
প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের উদ্ধৃতি টেনে বলা যায়, “প্রত্যেকেই একেকটি আলাদিনের প্রদীপ নিয়ে আসে, কিন্তু সিয়াম সেই প্রদীপ থেকে ঘুমন্ত দৈত্যকে জাগাতে পেরেছেন।” আর তাই তিনি এখন শুধু নায়ক নন, দর্শকের অনুভূতির একটি নির্ভরযোগ্য নাম।

