ক্রোয়েশিয়ার ঐতিহাসিক শহর ডুব্রভনিক- যেখানে শুটিং হয়েছে জনপ্রিয় টিভি সিরিজ গেম অব থ্রোনস এবং স্টার ওয়ার্স: দ্য লাস্ট জেডাই- সেই শহরের চলচ্চিত্রশিল্প ও পর্যটন এখন এক নতুন শঙ্কার মুখে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নির্মিত সিনেমার ওপর ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই ঘোষণায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে ক্রোয়েশিয়ার বিনোদন খাতে।
ডুব্রভনিকের স্থানীয় অর্থনীতি অনেকাংশে চলচ্চিত্র ও পর্যটন নির্ভর। গেম অব থ্রোনসের পর শহরে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে কয়েক গুণ। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,০০০ পর্যটক ‘থ্রোনস ট্যুর’-এ অংশ নেন বলে জানিয়েছেন গাইড ইভান ভুকোভিচ। এতে কর্মসংস্থান ও স্থানীয় ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তবে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শুল্ক পরিকল্পনায় ইউরোপের আউটডোর শুটিং স্পটগুলো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ক্রোয়েশিয়ান চলচ্চিত্র প্রযোজক ইগর আলেকজান্ডার নোলা বলেন, “এই ট্যারিফ পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই অস্থিরতা তৈরি করেছে। সিনেমা বাজেট সংকুচিত হচ্ছে, বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে।” সূত্র: রয়টার্স
মধ্য ও দক্ষিণ ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই হলিউডের জন্য জনপ্রিয় শুটিং গন্তব্য। নাটকীয় প্রাকৃতিক দৃশ্য, সমৃদ্ধ স্থাপত্য আর তুলনামূলক কম খরচের কারণে ইউরোপের এ অঞ্চলগুলো চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে। এসব চলচ্চিত্র বা সিরিজ যখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়, তখন সেই শ্যুটিং লোকেশনগুলো পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
ট্রাম্পের শুল্ক পরিকল্পনা কার্যকরের সময় ও পদ্ধতি এখনও স্পষ্ট নয়। চলচ্চিত্র শিল্পের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ নিয়ে উদ্বেগের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, যদি শুল্ক কার্যকর হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রে ইউরোপে নির্মিত সিনেমা রপ্তানির খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এতে ভবিষ্যতে ইউরোপের লোকেশনগুলোতে মার্কিন প্রযোজনার সংখ্যা কমে যেতে পারে।
তবে ডুব্রভনিকের মেয়র মাতে ফ্রাঙ্কোভিচ শঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার মতে, প্রতিবছর প্রায় ১৪ লাখ পর্যটক আমাদের শহরে আসেন। আমি বিশ্বাস করি না যে বড় কোনো মার্কিন প্রযোজনা ইউরোপকে এড়িয়ে যেতে পারবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ট্যারিফ এখনো বাস্তবায়িত না হলেও- এটি ইউরোপের সিনেমা শিল্প ও পর্যটন-নির্ভর শহরগুলোর জন্য বড় হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ডুব্রভনিকের মতো শহর, যারা বৈশ্বিক বিনোদন জগতের অংশ হয়ে ওঠার সুবাদে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে, সেখানে এমন শুল্ক ভবিষ্যতের জন্য একটি দুশ্চিন্তার বার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

