নির্মাতা আদনান আল রাজীবের ‘আলী’ বাংলাদেশের সিনেমাকে নিয়ে গেল নতুন উচ্চতায়! ৭৮তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র শাখার বিচারকদের রায়ে “স্পেশাল মেনশন” পেল সিনেমাটি।
এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের কোনো সিনেমা প্রথমবারের মত কান চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে স্বীকৃতি পেল। গতকাল শনিবার (২৪ মে) কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল ভেন্যু পালে দে ফেস্টিভ্যাল ভবনের গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে সমাপনী আয়োজনে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
উৎসবের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে সেরার পুরস্কার “স্বর্ণপাম” জিতেছে ইসরায়েলের তৌফিক বারহোম পরিচালিত “আই অ্যাম গ্ল্যাড ইউ আর ডেড নাউ”।
এই বিভাগের প্রধান বিচারক জার্মান নির্মাতা মারেন আদে মঞ্চে দাঁড়িয়ে “আলী” কে স্পেশাল মেনশন দেওয়ার কথা জানান। অতিথি সারিতে বসা নির্মাতা আদনান আল রাজীব উঠে দাঁড়ালে সবাই করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান।
পরে এক ফেসবুক পোস্টে আদনান আল রাজীব লেখেন, “এটা বাংলাদেশের জন্য”। এই অর্জনের পর বিনোদন অঙ্গনের অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতারা রাজীবকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
পরিচালকের স্ত্রী ও অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী লিখেছেন, “বাংলাদেশ প্রথমবারের মত কান চলচ্চিত্র উৎসব থেকে পুরস্কার পেল! অভিনন্দন আদন আল রাজীব ও ‘আলী’ টিমকে”!!
নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী লিখেছেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কান চলচ্চিত্র উৎসব থেকে এসেছে গৌরবের স্পেশাল মেনশন অ্যাওয়ার্ড। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়ল টিম ‘আলী’। সবাইকে অভিনন্দন”।
নির্মাতা রেদোয়ান রনি লিখেছেন, “তোমরা ইতিহাস গড়েছ, আমাদের স্বপ্নকে পৌঁছে দিয়েছ বিশ্বমঞ্চে, আর আমাদের হৃদয় ভরিয়ে দিয়েছ ভালোবাসা আর গর্বে। বাংলাদেশ এগিয়ে চলুক”।
কানে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা আলী প্রদর্শিত হয় গত শুক্রবার। সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র আলী উপকূলীয় এলাকার এক কিশোর। যেখানে সে থাকে, সেখানে নারীদের গান গাইতে দেওয়া হয় না। শহরে যাওয়ার সুযোগ পেতে আলী একটি গানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। ব্যতিক্রমী বিষয় হল, সে নারীকণ্ঠেও গান গাইতে পারে।
১৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই সিনেমায় আলী চরিত্রে অভিনয় করেছেন আল আমিন। গত বছরের নভেম্বরে সিলেটে ‘আলী’র দৃশ্যধারণ হয়। নির্মাতা আদনান আল রাজীব প্রায় দুই দশক ধরে বিজ্ঞাপন ও নাটক বানিয়েছেন। আলী নির্মাণ নিয়ে তার ভাষ্য, “ব্যক্তিজীবনের ভেতর দিয়ে আমরা একটা অনিবার্য সত্যকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করেছি। সহজ-সরল-সুন্দর ঢঙেই কাজটি করার চেষ্টা ছিল আমাদের”।
স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমাটির প্রযোজনা করেছেন বাংলাদেশের তানভীর হোসেন ও ফিলিপাইনের ক্রিস্টিন ডি লিওন। সিনেমাটির লাইন প্রোডাকশন কোম্পানি ‘রানআউট ফিল্মস’।

