বলিউড অভিনেত্রী করিনা কাপুর খান একাধারে গ্ল্যামার, প্রতিভা ও স্টারডমের প্রতীক। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি বলিউডের তিন সুপারস্টার—শাহরুখ খান, আমির খান এবং সালমান খানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন, এবং একাধিক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন দর্শকদের। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই তিন খানকে নিয়ে দেওয়া তার মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক।
সাংবাদিক উমেশ জীভনানির সঙ্গে আলাপচারিতায় করিনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি এই তিন খান সম্পর্কে কী ভাবেন? প্রশ্নটি শুনেই খোলামেলা উত্তর দেন অভিনেত্রী।
প্রথমেই শাহরুখ খানকে নিয়ে নিজের ভালোবাসার কথা অকপটে জানান করিনা। তিনি বলেন, “শাহরুখের সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করবেন না। আমি ওর প্রেমেই পড়ে যাই। আমি যদি তার সম্পর্কে বলতে শুরু করি, তাহলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বলে যেতে পারব। অমিতাভ বচ্চন ও শাহরুখ এই দুই অভিনেতাই আমার খুব প্রিয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, শাহরুখের ‘পাশের বাড়ির ছেলে’ ধরনের ব্যক্তিত্বই তাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে।
এরপর যখন আমির খানের প্রসঙ্গ আসে, করিনা বলেন, “আমিরও ভালো। ‘হাম হ্যায় রাহি প্যায়ার কে’ এবং ‘কায়ামত সে কায়ামত তক’ ছবিতে আমার আমিরকে সত্যিই ভালো লেগেছে। কিন্তু তিন খানদের মধ্যে যদি কাউকে বেছে নিতে হয়, তাহলে আমি শাহরুখের ভক্ত।”
তবে সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছেন তিনি সালমান খান সম্পর্কে মন্তব্য করে। প্রশ্ন করা হয়, সালমানকে নিয়ে তার মত কী?
কারিনা সরাসরি বলেন, “আমি মোটেও সালমানের ভক্ত নই। ওকে পছন্দ করি না, খুব খারাপ অভিনেতা। আমি এটা সালমানকে বলিও, সে সবকিছুকেই অতিরঞ্জিত করে তোলে।”
এই মন্তব্য সামনে আসতেই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে সালমান খানের ভক্তরা করিনার এই বক্তব্য মেনে নিতে পারছেন না। অনেকে করিনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ থাকতেই পারে, কিন্তু একজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এমন তীব্র সমালোচনা করা উচিত হয়নি।
প্রসঙ্গত, করিনা শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘অশোকা’ (২০০১) ও ‘রা.ওয়ান’ (২০১১)-এ অভিনয় করেছেন।
আমির খানের সঙ্গে কাজ করেছেন ‘থ্রি ইডিয়টস’ (২০০৯) ও ‘লাল সিং চাড্ডা’ (২০২২)-তে।
আর সালমান খানের সঙ্গে দেখা গেছে ‘বডিগার্ড’ (২০১১), ‘কিঁউ কি’ (২০০৫) এবং ‘ম্যায় অর মিসেস খান্না’ (২০০৯)-র মতো ছবিতে।
এই বিতর্কের মাঝে করিনা এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেননি, তবে বলিউড মহলে আলোচনা চলছে—তিন খানের যুগে কাজ করা একজন অভিনেত্রীর এমন মন্তব্য কি শুধুই ব্যক্তিগত মত, নাকি এর পেছনে আছে আরও গভীর কোনও কারণ? সময়ই হয়তো এর উত্তর দেবে।

