বর্ষীয়ান নাট্যজন ও অভিনেতা মামুনুর রশীদ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। গত ৩০ এপ্রিল তিনি ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। বিমানযাত্রার সময়ই অসুস্থ বোধ করায় অবতরণের পর দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। চিকিৎসকরা তার ফুসফুসের উভয় পাশে ডাবল নিউমোনিয়ার সংক্রমণ এবং রক্তে ইনফেকশন শনাক্ত করেন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়।
আরো ছয় দিন আইসিইউতে চিকিৎসার পর বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তার ছেলে আদিবের বাসায় বিশ্রামে আছেন। মামুনুর রশীদ বলেন, “ডাবল নিউমোনিয়া হয়েছিল, রক্তে ইনফেকশন ছিল। ডাক্তাররা সপ্তম দিনে ছেড়েছে। এখন একটু ভালোর দিকে।”
অন্যদিকে গত ২ মে মামুনুর রশীদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার একটি মামলাও দায়ের হয়েছে। পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ এমদাদকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মোট ২০১ জনকে আসামি করা হয়, যার মধ্যে রয়েছেন নাট্যজনসহ সাংবাদিক, সাবেক উপাচার্য ও শিক্ষকরা। মামুনুর রশীদ এই মামলার অন্যতম আসামি।
তার নাট্যসংগঠন ‘আরণ্যক নাট্যদল’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “মামুনুর রশীদ একজন যিনি সারাজীবন শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। তার কর্মকাণ্ড মানবিকতার পক্ষে এবং সব ধরনের শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে। তাকে এ ধরনের মামলায় জড়ানো মানুষের প্রতি এবং দেশের সংস্কৃতিচর্চার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।”
১৯৭২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি স্বাধীনতার পর ‘আরণ্যক নাট্যদল’ প্রতিষ্ঠা করে তিনি নাট্যজগতে আত্মপ্রকাশ করেন। একই বছর ২০ ফেব্রুয়ারি শহীদ মুনীর চৌধুরীর লেখা ‘কবর’ নাটকটি মঞ্চস্থ করেন, যার নির্দেশনাও নিজে দেন। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে নাটক পরিচালনা, অভিনয় ও লেখালেখির মাধ্যমে তিনি বাংলা নাট্যজগতে অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিচিত।
এখনো পর্যন্ত তার স্বাস্থ্য বিষয়ে পরবর্তী আপডেট পাওয়া যায়নি, তবে চিকিৎসকদের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

