তাঁকে বলা হয় বলিউড বাদশাহ। তার এক ঝলক দেখার জন্য মুখিয়ে থাকে গোটা দুনিয়া। শুধু ভক্ত নয়, বিশ্বজুড়ে বহু নামি তারকারাও শাহরুখ খানের ব্যক্তিত্ব ও ভালোবাসার জালে বন্দি। কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠা এই অভিনেতা পেরিয়ে এসেছেন দীর্ঘ ৩৩ বছরের রঙিন পথ। ২৫ জুন, বলিউডে পা রাখার ৩৩ বছর পূর্ণ করলেন শাহরুখ খান। ‘আউটসাইডার’ তকমা নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই দিল্লির ছেলেটি আজ হয়ে উঠেছেন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী তারকা। মঞ্চনাটকে অভিনয় থেকে শুরু করে পৌঁছে গেছেন রুপালি পর্দার শীর্ষে।
১৯৮৮ সালে ‘ফৌজি’ সিরিজে ক্যাপ্টেন অভিমন্যু রাই চরিত্রে টিভি পর্দায় অভিষেক হয় শাহরুখের। এরপর ‘সার্কাস’ ও ‘উমিদ’-এর মতো ধারাবাহিকে কাজ করলেও তার চোখ ছিল বড় পর্দায়। সেই স্বপ্ন পূরণ হয় ১৯৯২ সালের ২৫ জুন ‘দিওয়ানা’ সিনেমা দিয়ে। প্রথম ছবিতেই তিনি জিতে নেন ফিল্মফেয়ার সেরা নবাগত পুরস্কার।
ক্যারিয়ারের শুরুতে শাহরুখকে দর্শক ভিলেন চরিত্রেই বেশি গ্রহণ করেছিল। ‘ডর’, ‘বাজিগর’ ও ‘আনজাম’-এ নেতিবাচক চরিত্রেও তিনি জয় করেছেন দর্শকের মন। এরপর ১৯৯৫ সালের ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ সিনেমা তাকে নিয়ে যায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে। পরবর্তীতে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘মোহাব্বতে’, ‘কাল হো না হো’-এর মতো ছবিতে রোমান্টিক হিরো হিসেবে স্থায়ী জায়গা করে নেন তিনি।
রোমান্টিক চরিত্র ছাড়াও শাহরুখ খান বারবার প্রমাণ করেছেন নিজের অভিনয়ের পরিসর। ‘স্বদেশ’, ‘চাক দে! ইন্ডিয়া’ ও ‘মাই নেম ইজ খান’-এ তিনি দেখিয়েছেন গভীর, আবেগঘন অভিনয়। এছাড়া ‘ফ্যান’, ‘জিরো’, ‘পহেলি’র মতো ছবিতে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন একেবারে নতুনভাবে।
শুধু অভিনয়েই নয়, ব্যবসায়িক বুদ্ধিতেও শাহরুখ অনন্য। রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট, কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং ডিজিটাল প্রযোজনায় রয়েছে তার সফল পদচারণা। তার ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিং দক্ষতা তাকে দিয়েছে অতুলনীয় উচ্চতা। একাধিকবার ফোর্বসের তালিকায় উঠে এসেছে তার নাম বিশ্বের শীর্ষ ধনী তারকাদের একজন হিসেবে। বলিউড ছাড়িয়ে শাহরুখ এখন একটি আন্তর্জাতিক নাম। টাইমস, ফোর্বস ও ভ্যারাইটি-র মতো প্ল্যাটফর্মে একাধিকবার স্থান পেয়েছেন বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায়। হলিউডের মার্টিন স্করসেজি, ব্রাড পিট, অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মতো তারকারাও তার সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবুও শাহরুখ নিজেকে ধরে রেখেছেন ভারতীয় সিনেমার গণ্ডিতে।

অসাধারণ ক্যারিয়ারের মাঝেও ব্যর্থতা এসেছে। দেড় দশক ধরে একের পর এক সিনেমা ফ্লপ করেছে। শাহরুখ যেন হারিয়েছিলেন নিজের ছন্দ। সেই বিরতিতে তিনি নিজেকে বুঝেছেন, সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রস্তুত হয়েছেন। চার বছরের বিরতির পর ২০২৩ সালে ‘পাঠান’ দিয়ে পর্দায় ফেরেন তিনি। সিনেমাটি বক্স অফিসে সর্বকালের সেরা হিট হয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
একই বছরে মুক্তি পাওয়া ‘জওয়ান’ ও ‘ডানকি’ও হয়েছে সফল। এক বছরে প্রায় আড়াই হাজার কোটি রুপি আয় করে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন—বাদশা কখনো হারিয়ে যান না, শুধু অপেক্ষা করেন সঠিক সময়ের। ৩৩ বছরের এই যাত্রায় শাহরুখ খান হয়ে উঠেছেন সাহস, স্বপ্ন আর সাফল্যের প্রতীক। তার জীবনগল্প বলে দেয়—প্রতিভা, পরিশ্রম আর নম্রতা থাকলে এক ‘বাইরের লোক’ও হয়ে উঠতে পারে বিশ্বের সবচেয়ে চর্চিত নাম।

