ঈদ উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত বহু সিনেমার মধ্যে ‘তাণ্ডব’ ও ‘ইনসাফ’ নিয়ে আগেভাগেই দর্শক-আশা ছিল তুঙ্গে। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে বাজিমাত করেছে একেবারে ভিন্নধর্মী ও তারকাবহুল পারিবারিক চলচ্চিত্র ‘উৎসব’। ‘পরিবার ছাড়া দেখা নিষেধ’—এই ব্যতিক্রমী ট্যাগলাইনেই যেন আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল ছবির ধরণ। আর মুক্তির পর প্রমাণও মিলেছে—সিনেমাটি যেন হয়ে উঠেছে সব বয়সি দর্শকের ঈদের উৎসবের অংশ।
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির ২৯ দিনের মধ্যেই ‘উৎসব’ দেশের মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে ৫ কোটি টাকার বেশি টিকিট বিক্রি করেছে—যা এবারের ঈদের অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবেই ধরা হচ্ছে।
চলচ্চিত্রটির অন্যতম নির্মাতা তানিম নূর গণমাধ্যমকে জানান, দর্শকের সাড়া দেখে তিনি অভিভূত। “যেভাবে মানুষ ‘উৎসব’ ছবিকে গ্রহণ করছে, ভালোবাসছে—তা অবিশ্বাস্য। সিনেমাটি যেন আলাদাভাবে একটা উৎসবই তৈরি করে ফেলেছে। হলভর্তি দর্শক, মুখে মুখে ছবির আলোচনা—এসব আমাদের টিমকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করছে,” বলেন তিনি।
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা প্রথম থেকেই বলে এসেছি—এই সিনেমা পরিবার ছাড়া দেখা যাবে না। দর্শকরাও সেই বার্তা পেয়েছেন, বুঝেছেন, এবং পরিবার নিয়েই হলে আসছেন। এতটাই উপভোগ্য ও পরিচ্ছন্ন গল্পের সিনেমা এটি।”
‘উৎসব’-এর অন্যতম আকর্ষণ এর অভিনয়শিল্পীরা। এক ছবিতে এক ঝাঁক তারকা—জাহিদ হাসান, জয়া আহসান, অপি করিম, চঞ্চল চৌধুরী, আফসানা মিমি, তারিক আনাম খান, আজাদ আবুল কালাম, ইন্তেখাব দিনার, সুনেরাহ বিনতে কামাল, সৌম্য জ্যোতি ও সাদিয়া আয়মান—তাঁদের অভিনয়ে গল্প পেয়েছে প্রাণ, আর দর্শক পেয়েছে বিশ্বাসযোগ্য আবেগ।
গল্প ও চিত্রনাট্যের পেছনে ছিলেন তানিম নূর, আয়মান আসিব স্বাধীন, সুস্ময় সরকার ও সামিউল ভূঁইয়ার মতো প্রতিভাবান নির্মাতারা। পারিবারিক সম্পর্ক, টানাপোড়েন, আবেগ, দ্বন্দ্ব ও সামাজিক বাস্তবতা মিলিয়ে ‘উৎসব’ হয়ে উঠেছে এক নিখুঁত আবেগনির্ভর পারিবারিক চিত্রনাট্য।
ঈদে যখন অ্যাকশন ও রাজনৈতিক উত্তেজনার সিনেমাগুলোর প্রতিই দৃষ্টি ছিল সবার, ঠিক তখনই ‘উৎসব’ এক অন্যধারার গল্প ও নির্মাণভাষা দিয়ে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। ছবিটি প্রমাণ করেছে—পরিবারকেন্দ্রিক গল্পের আবেদন কখনো ফুরায় না। আর একটি পরিপূর্ণ কাস্ট, শক্তিশালী চিত্রনাট্য আর আন্তরিক নির্মাণ থাকলে বাণিজ্যিক সফলতাও সহজেই ধরা দেয়।

