এটা পাখি নয়, প্লেনও নয় — এটা ২০২৫ সালের নতুন ‘সুপারম্যান’! আর মুক্তির পরপরই সিনেমাটি যেভাবে উড়ছে, তাতে হলিউড বুঝে গেছে: মানুষ এখনো সুপারহিরোর আশায় বুক বাঁধে।
ওয়ার্নার ব্রোসের নতুন ‘সুপারম্যান’ সিনেমাটি শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে একদিনেই আয় করেছে প্রায় ৫৬.৫ মিলিয়ন ডলার, আর বৃহস্পতিবার প্রিভিউ থেকেই এসেছিল ২২.৫ মিলিয়ন। সব মিলিয়ে শুধু উদ্বোধনী সপ্তাহান্তেই সিনেমাটি প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ডলারের ঘরে ঢুকে পড়তে যাচ্ছে।
এই সিনেমা শুধু আরেকটি কমিকবুক অ্যাডাপটেশন নয়, বরং ডিসি স্টুডিওর জন্য এক নতুন শুরু। পরিচালক ও ডিসি’র সহ-প্রধান জেমস গান্ন ২০২৩ সালে ঘোষণা করেছিলেন ডিসি সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সে বড় পরিবর্তন আসছে, আর ‘সুপারম্যান’ হতে যাচ্ছে সেই রিবুটের সূচনা।
ফান্ড্যাঙ্গোর বিশ্লেষক শন রবিন্স বলছেন,
“সুপারম্যান ছিল অনুমান করা সবচেয়ে কঠিন ছবিগুলোর একটি। দর্শক এখন কমিকবুক সিনেমা নিয়ে কিছুটা ক্লান্ত, আর ডিসির অতীত সাফল্যও মার্ভেলের মতো ধারাবাহিক ছিল না।”
তবে ‘সুপারম্যান’ যেন সেই ক্লান্তির দেয়াল ভেঙে দিয়েছে।
রোটেন টমেটোস-এ সিনেমার স্কোর ৮২%, আর ‘পপকর্ন মিটার’-এ এর জনপ্রিয়তা ৯৫%। মানে, যারা দেখেছেন, তাদের বেশিরভাগই পছন্দ করেছেন।
কমস্কোর বিশ্লেষক পল ডারগারাবেডিয়ান বলছেন,
“এই সুপারম্যান আধুনিক সময়ের উপযোগী। দর্শক এখানে পেয়েছেন পুরোনো আশা, নতুন ভঙ্গিতে।”
এর আগে জ্যাক স্নাইডারের পরিচালনায় ২০১৩ সালের মাণ অফ স্টীলবেশ হেভি টোনে তৈরি হয়েছিল। আর এবার গান্নের সুপারম্যান অনেক হালকা, প্রাণবন্ত ও আশাবাদা
গত কয়েক বছরে একের পর এক সুপারহিরো সিনেমা মুক্তি পেয়েছে, যার কিছু খুব সফল হলেও কিছু মার খেয়েছে। যেমন ২০২৩ সালের মার্ভেল সিনেমা দ্যা মারভেলস ছিল ফ্র্যাঞ্চাইজির ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল ওপেনিং, মাত্র ৪৬ মিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ডেডপুল এন্ড ওলভারিন রেকর্ড গড়ে প্রথম সপ্তাহেই ২০০ মিলিয়ন আয় করেছিল।
রবিন্স বলেন, “২০ বছর ধরে দর্শক এত বেশি সুপারহিরো ছবি দেখেছে যে এখন কিছুটা ‘seen it all’ অনুভব করে। তাই ভিন্ন কিছু না হলে আগ্রহ ধরে রাখা কঠিন।”
কিন্তু ‘সুপারম্যান’ সেই ভিন্নতার জায়গা থেকেই বাজিমাত করেছে — গল্পে হালকাভাব, চরিত্রে মানবিকতা, আর পরিবারকেও টানার মতো নির্মাণ।
গত সপ্তাহে মুক্তি পাওয়াজ জুরেসিক ওয়াল্ড ইতিমধ্যেই ১৪৭ মিলিয়ন আয় করেছে, অর্থাৎ ব্লকবাস্টার সিজন জমে উঠেছে। সেই উত্তাপেই এবার উড়াল দিল সুপারম্যান।
“এই সিনেমা একদম ‘সামার পপকর্ন মুভি’ — হালকা, মজাদার, আর হৃদয় ছুঁয়ে যায়। দর্শকেরা ঠিক এমন কিছুই খুঁজছিলেন,” বলছেন ডারগারাবেডিয়ান।
শুধু বড় উদ্বোধনী আয় নয়, সিনেমার ভবিষ্যত নির্ভর করছে একটাই জিনিসের ওপর — দর্শক কী বলছে?
“এটা সবসময়ই একটা ‘এক্সপেকটেশন গেম’। প্রথম ধাক্কা ভালো হলেই হবে না, সিনেমাটিকে টিকে থাকতে হলে দরকার হবে ভালো ‘ওয়ার্ড অফ মাউথ’,”— বলেন বিশ্লেষক রবিন্স।
আর এখন পর্যন্ত সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, ‘সুপারম্যান’ শুধু আকাশে নয়, দর্শকের মনেও উড়ছে।

