ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের শোবিজ অঙ্গনেও। দুর্ঘটনার পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় একে একে মুখ খুলেছেন চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত ও অন্যান্য সংস্কৃতি জগতের তারকারা। তারা নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, আহতদের সুস্থতা কামনা করছেন এবং রক্তদানের জন্য সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছেন।
আইএসপিআর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে এবং আহত হয়েছেন আরও ১৬৫ জন। এর মধ্যে বেশিরভাগই শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ। নিহতদের অনেকে ছিলেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী। বিধ্বস্তের পরপরই স্কুল ভবনে আগুন ধরে যায়, সৃষ্টি হয় বিভীষিকাময় এক পরিস্থিতির।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী জয়া আহসান নিজের ফেসবুক পেজে লেখেন, “কোনো শব্দ নেই। শিশুদের কান্না, মায়ের আর্তনাদ, পোড়া ভবন… আমরা কি এরকম মৃত্যুর যোগ্য জাতি হতে চেয়েছিলাম?” তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
অভিনেতা সিয়াম আহমেদ ইনস্টাগ্রামে লেখেন, “এই মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান আর স্কুল- এই দুইয়ের সংযোগ যেন মেলানো যায় না। যন্ত্রের ত্রুটিতে এতগুলো প্রাণ শেষ হয়ে গেল। এ দুঃখ কোন ভাষায় বলি!” তিনি ঢাকাবাসীকে রক্তদানের আহ্বান জানান এবং নিজেও সিএমএইচে গিয়ে রক্ত দিয়ে আসেন বলে জানিয়েছেন।
চিত্রনায়িকা পরীমণি লিখেছেন, “বাচ্চাগুলোর ছবি দেখছি, আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারছি না। আমার ছোট ছেলের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে ওদের কেউ হয়তো এমন করেই মাকে ডাকছিল… আল্লাহ, এই যন্ত্রণা যেন আর কাউকে না দেখতে হয়।”
সংগীতশিল্পী তাহসান খান লিখেছেন, “এই ট্র্যাজেডি গোটা জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। মাইলস্টোনের শিক্ষক, ছাত্র, পরিবার- সবাই আমাদের পরিবারের অংশ। আমি নিজেও একসময় এই স্কুলের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলাম। এই ধাক্কা কোনোভাবেই ভুলবার নয়।”
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এক টুইটে লেখেন, “ভবিষ্যতের স্বপ্ন হারিয়ে গেল কয়েক মিনিটে। এই শিক্ষার্থীরা তো আমাদের আগামী দিনের বাংলাদেশ ছিল।”
শিল্পীদের এই প্রতিক্রিয়ায় তাদের শোকের পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে প্রশ্নও উঠে এসেছে। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, প্রশিক্ষণ বিমান ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় উড্ডয়ন ও প্রশিক্ষণে ব্যবহারের অনুমতি কীভাবে দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে সরকার কী ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এই দুর্ঘটনায় যেসব হাসপাতালে আহতরা চিকিৎসাধীন, সেখানেও অনেক শিল্পী ও স্বেচ্ছাসেবী দেখা গেছে। অভিনেতা অপূর্ব এবং সংগীতশিল্পী মিলা আহতদের দেখতে সিএমএইচে যান। নাট্যজনরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বার্ন ইনস্টিটিউটে আহতদের পাশে দাঁড়ান।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই দুর্ঘটনার ভিডিও এবং ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আহত শিশুদের চিৎকার, পোড়া ভবনের ধোঁয়া ও স্বজনদের কান্নার দৃশ্য দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। একাধিক তারকা এই ধরনের ভিডিও শেয়ার না করার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং মানবিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ বলেন, “আমরা যদি এই ঘটনায়ও রাজনীতি করি, জাতি হিসেবে আরও ডুবব। আমাদের শিশুদের জীবন নিয়ে কেউ যেন আর গাফিলতি না করে- এই দাবি জানাই।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন তারকা রক্তদানের জন্য নিজ নিজ অনুসারীদের আহ্বান জানিয়েছেন। ঢাকার বেশ কয়েকটি হাসপাতালের সামনে স্বেচ্ছায় রক্তদানের ক্যাম্পও গড়ে উঠেছে।
এই ট্র্যাজেডি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, একটি জাতির অসতর্কতার দাম হিসেবে দেখছেন অনেকেই। শোবিজ অঙ্গনের তারকারা তাই শুধু শোক নয়, জবাবদিহি ও নিরাপত্তা সংস্কৃতির পক্ষেও সোচ্চার হচ্ছেন।

