বিশ্বখ্যাত আমেরিকান গায়িকা ও অভিনেত্রী মাদোনা, যিনি রোমান ক্যাথলিক ধর্মে বেড়ে উঠেছেন, সোমবার তার ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন পোস্টে পোপ ফ্রান্সিসকে সরাসরি গাজায় মানবিক মিশনে যাওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সব সময় এখন শেষ হয়ে আসছে। গাজায় থাকা ক্ষুধার্ত শিশুদের দিকে আপনার আলোকবর্তিকা পৌঁছানো দরকার।”
মাদোনা বলেন, “বিশ্বের সব শিশুরা আমাদের সবার। একজন পোপ হিসেবে আপনার দরজা গাজার শিশুদের জন্য সর্বদা খোলা থাকা উচিত।”
তিনি আরও জানান, রাজনীতি কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না, কিন্তু মানুষের চেতনা তা করতে সক্ষম। এই মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে শিশুদের বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মাদোনা।
মাদোনার এই আবেদনের দিনটি তার ছেলের জন্মদিন, যার জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হিসেবে তিনি গাজার শিশুদের জন্য সাহায্যের আবেদন করছেন।
গাজায় চলমান যুদ্ধের কারণে হাজার হাজার শিশুর প্রাণহানি হয়েছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় অন্তত ১৮,০০০ শিশু নিহত হয়েছে, দৈনিক গড়ে ২৮ শিশুর মৃত্যু হচ্ছে।
গাজায় ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিরা ১০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে খাবারের জন্য অপেক্ষা করছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, ইসরায়েলের দেওয়া অবরোধের কারণে গাজায় মানুষের মধ্যে “মানবসৃষ্ট গণক্ষুধা” তৈরি হয়েছে।
মাদোনা স্পষ্ট করেছেন, তিনি কাউকে দোষারোপ করছেন না, সব পক্ষেই দুঃখ রয়েছে—যেমন কভিড বন্দীদের মায়েরাও কষ্ট পাচ্ছেন। তিনি সকলের জন্য প্রার্থনা করছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরস আধানম গেব্রেয়েসাস মাদোনার পোস্টের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, “মানবতার জন্য ও শান্তির জন্য এটা অত্যন্ত জরুরি।”
মাদোনার এই আহ্বান আসছে এমন সময় যখন পোপ ফ্রান্সিস গাজার নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছেন।
যদিও ইসরায়েল গাজায় সাহায্য পৌঁছানোর পথ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে, জুলাই মাসে তারা দুটি গির্জার নেতাদের গাজায় যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল, যা একটি বিরল ঘটনা।
বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার কর্মী ও শিল্পীরা গাজার শিশুদের দুর্দশা তুলে ধরার জন্য একযোগে কাজ করছেন। মাদোনা নিজেও এই যুদ্ধে “ব্রেকিং হার্ট” শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
মাদোনার আহ্বানসহ বিশ্বব্যাপী অনেক শিল্পী ও দেশ যেমন অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে পোপ গাজার সফর করতে পারবেন কি না তা নিশ্চিত নয়, কারণ ইসরায়েলি সরকার এর অনুমতি দিতে হবে।
গাজার শিশুদের প্রতি এই মানবিক আহ্বান আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াচ্ছে, এবং যুদ্ধের দীর্ঘায়িত ক্ষতি বন্ধ করার দাবি তীব্র হচ্ছে।