সারা দেশে জেঁকে বসেছে শীত। কয়েকটি বিভাগের বিভিন্ন জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বইছে এবং তাপমাত্রা নেমে গেছে ৭-৮ ডিগ্রিতে। দিনভর সূর্যের আলো দেখা যায় না, কারণ ধূসর রঙা ঘন কুয়াশার চাদর। শীতে ঘন কুয়াশা সাধারণ দৃশ্য।
তবে কুয়াশা আসলে কী, কীভাবে এবং কেন তৈরি হয়?
কুয়াশা কীভাবে তৈরি হয়-
আবহাওয়াবিদদের মতে, কুয়াশা হলো ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি তৈরি হওয়া লো ক্লাউড। এর পেছনে মূলত বাতাসের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার পার্থক্য দায়ী। শীতকালে কুয়াশার প্রবণতা বেশি থাকে।
কারণ হিসেবে বলা হয়, শীতকালে মাটিতে থাকা আর্দ্রতা ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠে আসে। যখন এই বাতাস শিশিরাঙ্কে পৌঁছায়, অর্থাৎ ঠান্ডা হয়ে ক্ষুদ্র জলকণায় রূপ নেয়, তখন কুয়াশা তৈরি হয়।
আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ বলেন, ‘দিনে সারফেসে যে তাপমাত্রা আসে, রাতের সময় তা চলে যায়। যখন উপরের তাপমাত্রার চেয়ে নিচের তাপমাত্রা কম থাকে, তখন কুয়াশা তৈরি হয়।’ তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে কুয়াশা অ্যাডভেকশন ফগ হিসেবে ভারতীয় সাবকন্টিনেন্টের কিছু এলাকা থেকে আসে।
কুয়াশা, মিস্ট ও স্মগের পার্থক্য-
অনেকে মনে করেন কুয়াশা, মিস্ট ও স্মগ একই। কিন্তু পার্থক্য মূলত প্রক্রিয়া ও দৃশ্যমানতা নির্ভর।
- কুয়াশা: মাটির কাছে বাতাসের আর্দ্রতা ক্ষুদ্র জলকণায় রূপ নিলে সৃষ্টি হয়। দৃশ্যমানতা এক কিলোমিটারের কম হলে কুয়াশা বলা হয়।
- মিস্ট: একই প্রক্রিয়া হলেও ঘনত্ব কম। দৃশ্যমানতা এক কিলোমিটারের বেশি হলে মিস্ট বলা হয়। হালকা কুয়াশা হিসেবেও ধরা হয়।
- স্মগ: ধোঁয়া (smoke) ও কুয়াশার (fog) মিশ্রণ। বায়ুদূষণের ক্ষতিকর কণা জমে তৈরি হয়। প্রধানত শিল্প ও যানবাহনের ধোঁয়া থেকে হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
কুয়াশা কেন শীত বাড়ায়-
ঘন কুয়াশা দীর্ঘ সময় থাকলে সূর্যের আলো ভূপৃষ্ঠে পৌঁছতে পারে না। ফলে মাটি গরম হয় না এবং দিনের তাপমাত্রা কম থাকে। দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্যও কমে যায়, যার ফলে শীতের অনুভূতি আরও বেড়ে যায়।
কুয়াশা কাটার প্রক্রিয়া-
ঘন কুয়াশা কাটতে হলে কিছু আবহাওয়াগত শর্ত পূরণ প্রয়োজন।
- পশ্চিমা লঘুচাপ বা ওয়েস্টার্লি ডিসটার্বেন্স: এটি শীতকালে পশ্চিম দিক থেকে আসে, ঠান্ডা বাতাস, মেঘ, বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া নিয়ে আসে। বাতাসের গতিবেগ বাড়ালে কুয়াশা সরতে সাহায্য হয়।
- বৃষ্টি: কুয়াশা দূর করতে কার্যকর।
- উচ্চচাপ বলয়: বঙ্গোপসাগরে উচ্চচাপের উপস্থিতি কুয়াশা সরাতে সহায়ক।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘কুয়াশা কাটলে ঠান্ডার অনুভূতি কমে। প্রধান উপায় হলো বৃষ্টি হওয়া ও বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধি।’
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বজলুর রশিদ জানান, প্রতি ১২-১৫ দিন অন্তর পশ্চিমা লঘুচাপ হয়। কিন্তু গত ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত কোনও লঘুচাপ আসেনি। তাই বাতাসের আর্দ্রতা (ময়েশ্চার) কমছে না। আজ (৭ জানুয়ারি) বাতাস কিছুটা বেড়েছে, ফলে ময়েশ্চার কিছুটা কমেছে।

