থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ও ওয়ার্ল্ড র্যাংকিং টুর্নামেন্টে পুরুষদের কম্পাউন্ড দলগত ইভেন্টে বাংলাদেশের আর্চারি দল চমক সৃষ্টি করেছে। হিমু বাছাড়, ঐশ্বর্য রহমান ও নেওয়াজ আহমেদ রাকিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ফাইনালে ভিয়েতনামকে ২৩১-২২৫ পয়েন্টে পরাজিত করে স্বর্ণপদক জিতেছে। এটি এই ইভেন্টে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বর্ণ জয়।
দলটি প্রথম সেটেই শক্তিশালী উপস্থিতি দেখিয়েছে। ভিয়েতনামের ৫৫ পয়েন্টের বিপরীতে বাংলাদেশের দল ৫৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে সাময়িকভাবে এগিয়ে যায়। চতুর্থ সেটে সামান্য পিছিয়ে পড়লেও মোটপয়েন্টের বিচারে দল তিন পয়েন্টের এগিয়ে ছিল। পঞ্চম ও শেষ সেটে ৬০ পয়েন্টের মধ্যে বাংলাদেশ ৫৯ পয়েন্ট করে নিশ্চিত করে সোনার জয়।
দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে কম্পাউন্ড ইভেন্টে এটাই বাংলাদেশের প্রথম সোনাজয়। এর আগে বাংলাদেশ পুরুষ আর্চারি দল ২০২১ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় এবং ২০২২ সালে ইরাকে আয়োজিত এশিয়া কাপে দুইবার রূপা জিতেছিল। তবে স্বর্ণপদক জেতার কৃতিত্ব এবারই প্রথম।
বাংলাদেশের আর্চারি ইতিহাস দীর্ঘকাল ধরে রিকার্ভ ইভেন্টের সঙ্গে যুক্ত। রোমান সানা বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপে পদক জিতেছেন, দিয়া সিদ্দিকি এশিয়া কাপে সাফল্য অর্জন করেছেন। দুজনেই অলিম্পিকে খেলেছেন। সব সাফল্য রিকার্ভ ইভেন্টে। এবার কম্পাউন্ড ইভেন্টেও বাংলাদেশের দল নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছে।
এই সাফল্য শুধু পদক জেতা নয়; এটি বাংলাদেশের আর্চারি খেলার জন্য নতুন আত্মবিশ্বাস এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতির প্রতীক। দেশীয় পর্যায়ে আর্চারি আরও জনপ্রিয় হবে এবং তরুণদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হবে। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
ফাইনালে ভিয়েতনামকে পরাজিত করার পর বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা আনন্দমুখর। এই জয় পুরো দেশের আর্চারি ভক্তদের জন্য গর্বের মুহূর্ত। বিশেষ করে হিমু বাছাড়, ঐশ্বর্য রহমান ও নেওয়াজ আহমেদ রাকিবের দলগত সমন্বয় ও মনোবল ফাইনাল জয়ের মূল চাবিকাঠি।
এটি প্রমাণ করে যে, পরিকল্পনা, অনুশীলন ও দৃঢ় মনোবলের মিশ্রণে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশও স্বর্ণপদকের জন্য শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে। দেশীয় কোচ ও দলের সদস্যরা বলছেন, এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং সাফল্যের পথ খুলে দেবে।
এভাবে, থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ আর্চারি দলের কম্পাউন্ড স্বর্ণ জয় শুধু খেলাধুলার কৃতিত্ব নয়, এটি দেশের খেলা সংস্কৃতির জন্যও একটি অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায়।

