নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটিং ব্যর্থতা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের পুরোনো দুর্বলতা। খর্বশক্তির প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সুযোগ থাকলেও জীর্ণশীর্ণ ব্যাটিংয়ে সেই ম্যাচ হারতে হয়েছে স্বাগতিকদের, যা দলটির ভেতরের সমস্যাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
বিশেষ করে টপঅর্ডারের ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিক ব্যর্থতা এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লিটন দাস সাম্প্রতিক সময়েও বড় ইনিংস খেলতে পারছেন না। ২০২৩ বিশ্বকাপের পর থেকে ওয়ানডেতে তার কোনো ফিফটি নেই, আর এই সময়ে তার গড় নেমে এসেছে মাত্র ১৮.৪৩-এ। প্রথম ম্যাচে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তা দলের জন্য যথেষ্ট হয়নি।
একই অবস্থা আফিফ হোসেনের ক্ষেত্রেও। টানা ইনিংসগুলোতে তিনি বড় স্কোরের দেখা পাননি, গড়ও নেমে গেছে ১৫-এর ঘরে। ইনিংসের গতি ধরে রাখতে না পারা তার বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটেও দীর্ঘদিন ধরে রান নেই। গুরুত্বপূর্ণ তিন নম্বর পজিশনে ব্যাট করেও তিনি ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হচ্ছেন, যা দলের ব্যাটিং কাঠামোকে আরও দুর্বল করে তুলছে। তাওহিদ হৃদয় কিছুটা ধারাবাহিক হলেও বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারছেন না তার শুরুগুলো।
এদিকে নিচের দিকের ব্যাটসম্যানদের কিছুটা অবদান থাকলেও তা ম্যাচ জয়ের জন্য যথেষ্ট নয়। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও ব্যাট হাতে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারছেন না, ফলে চাপ আরও বাড়ছে পুরো ব্যাটিং ইউনিটের ওপর।
বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যাটা শুধু এক-দুইজন খেলোয়াড়ের নয়, বরং পুরো ব্যাটিং কাঠামোর ধারাবাহিকতা ও আত্মবিশ্বাসের সংকট। এই অবস্থায় দ্রুত উন্নতি না হলে সিরিজে ফিরে আসা কঠিন হয়ে যাবে বাংলাদেশের জন্য।
সব মিলিয়ে, ব্যাটিংয়ের এই দীর্ঘ খরা এখন শুধু হার নয়, দলের সামগ্রিক পরিকল্পনাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে—যেখানে ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

