বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আসন্ন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনকে ঘিরে ক্রিকেটাঙ্গনে আলোচনা বাড়ছে। আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিলেও কয়েকটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় কিছু নাম ইতোমধ্যে প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে।
গত শুক্রবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। তিনটি ক্যাটাগরি মিলিয়ে মোট ৩৯টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হলেও শেষ পর্যন্ত জমা পড়েছে ৩৩টি। বাকি ছয়জন প্রার্থী শেষ মুহূর্তে আর মনোনয়ন জমা দেননি। এর ফলে কিছু বিভাগে লড়াই জমলেও কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই পরিচালক হওয়ার পথ পরিষ্কার হয়ে গেছে।
জেলা ও বিভাগভিত্তিক ক্যাটাগরিতে মোট ১৯টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছিল। তবে জমা পড়েছে ১৪টি। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগ থেকে তিনটি করে মনোনয়ন জমা পড়েছে। বরিশাল থেকে দুটি এবং রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট থেকে একটি করে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
এই তিন বিভাগে আসনও একটি করে হওয়ায় মনোনয়ন যাচাইয়ে কোনো জটিলতা না থাকলে রাজশাহীর মীর শাহরুল আলম সীমান্ত, রংপুরের মির্জা ফয়সাল আমিন এবং সিলেটের কাইয়ুম চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে সাবেক ক্রিকেটার ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতেও দেখা গেছে একই চিত্র। সেখানে একটি আসনের বিপরীতে মাত্র একজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোনীত কাউন্সিলর সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর একাই এই ক্যাটাগরিতে প্রার্থী হওয়ায় তার পরিচালক হওয়াও প্রায় নিশ্চিত।
সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে ক্লাব ক্যাটাগরিতে। এখানে যতজন মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন, সবাই শেষ পর্যন্ত জমা দিয়েছেন। মোট ১৮ জন প্রার্থী এই ক্যাটাগরিতে লড়াই করবেন বলে জানা গেছে।
এই ক্যাটাগরির সবচেয়ে আলোচিত নাম বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হিসেবে ক্রিকেটে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা তামিম এবার বোর্ড প্রশাসনেও নিজের অবস্থান শক্ত করতে মাঠে নেমেছেন। তাকে ঘিরে ক্রিকেটাঙ্গনে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলনামূলক কম হলেও বোর্ডের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, প্রশাসনিক দিকনির্দেশনা এবং দেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে ভেতরে ভেতরে নানা সমীকরণ কাজ করছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নেতৃত্ব ও পরিচালনা কাঠামো নিয়ে যেসব আলোচনা হয়েছে, তার প্রভাবও নির্বাচনে পড়তে পারে।
আগামী কয়েক দিনে মনোনয়ন যাচাই ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর বিসিবি নির্বাচনের পুরো চিত্র আরও পরিষ্কার হবে। তবে এখনই এটা স্পষ্ট, কয়েকজন পরিচালক ভোট ছাড়াই বোর্ডে জায়গা করে নিতে যাচ্ছেন।

