৪০ বছরে পা দিলেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নামের পাশে যেন এখনও “অতীত” শব্দটা বসে না। বয়স কেবল সংখ্যাই—এ কথাটার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হয়ে চলেছেন তিনি নিজেই। সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের জার্সিতে রোনালদো এখনো মাঠ মাতাচ্ছেন নিয়মিত, আর তারই স্বীকৃতি হিসেবে এবার তিনি জিতেছেন মধ্যপ্রাচ্যের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার। এই সম্মাননা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থা গ্লোব সকার।
বিদায়ী বছরটি রোনালদোর জন্য ছিল দারুণ সাফল্যে ভরা। জাতীয় দলের হয়ে তিনি পর্তুগালকে উপহার দিয়েছেন দ্বিতীয় নেশন্স লিগ শিরোপা। ক্লাব ফুটবলেও ছিলেন ভয়ংকর ছন্দে। আল নাসরের হয়ে একের পর এক গোল করে প্রমাণ করেছেন, বয়স তার ক্ষুধা কমাতে পারেনি একটুও।
চলতি মৌসুমে আল নাসরও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। এখন পর্যন্ত খেলা ১০টি ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে দলটি। ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শুরুর ১০ ম্যাচে টানা জয়ের কীর্তি গড়েছে তারা। এই সাফল্যের পেছনে রোনালদোর অবদান আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। গোল, নেতৃত্ব আর অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে তিনি দলের মূল ভরসা।
এই পারফরম্যান্সের কারণেই মধ্যপ্রাচ্যের সেরা ফুটবলারের পুরস্কারের দৌড়ে তিনি ছিলেন অন্যতম শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী। শেষ পর্যন্ত সব প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে পুরস্কারটা উঠেছে তার হাতেই।
তবে ব্যক্তিগত অর্জনের এখানেই শেষ নয়। রোনালদো ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছেন ফুটবল ইতিহাসের এক অবিশ্বাস্য মাইলফলকের দিকে। প্রথম ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ারে ১০০০ গোল করার স্বপ্ন এখন আর অসম্ভব মনে হচ্ছে না। পরিকল্পনা ঠিক থাকলে ২০২৬ সালেই সেই ঐতিহাসিক রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলতে পারেন তিনি।
এই লক্ষ্য নিয়ে রোনালদোর কণ্ঠেও আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়ে। তার কথায়, তিনি এখনও সমানভাবে অনুপ্রাণিত এবং আরও শিরোপা জিততে চান। সেই সঙ্গে গোলের সেই ‘সংখ্যা’তেও পৌঁছাতে চান তিনি। চোট না থাকলে, ইনশাআল্লাহ, সেই মাইলফলক ছোঁয়া সম্ভব—এমন বিশ্বাসই রাখছেন ফুটবল বিশ্বের এই মহাতারকা।
৪০ বছরে দাঁড়িয়েও রোনালদো যেন বারবার বলে যাচ্ছেন—লড়াই এখনও শেষ হয়নি।

