সাবেক শুটার জিএম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি শুটারদের লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনা করে এক মাসের বেশি সময় ধরে তদন্ত চালায়। গতকাল তাদের প্রতিবেদন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে জমা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের আগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সাজ্জাদকে ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করেছিল। এরপরও তদন্ত কমিটি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ৯ পাতার একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করেছে। সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেদনে আটটি সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কমিটি দেখতে পায়, সাজ্জাদের আচরণ শুটারদের প্রতি অপ্রয়োজনীয় চাপ, ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং নির্দিষ্ট শুটারকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হেনস্থা করা—যা ফেডারেশনের দায়িত্ব ও শালীনতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এজন্য তাকে দীর্ঘমেয়াদী বা ১০ বছরের জন্য শুটিং থেকে বহিষ্কার করার সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে তিনি নারী শুটার বা কোচের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ এড়িয়ে চলবেন।
বাংলাদেশের অন্যতম সেরা নারী শুটার কামরুন নাহার কলিকে মানসিকভাবে নিপীড়নের অভিযোগ ছিল। কলি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পর বিষয়টি আরো আলোচিত হয়। ২০২৬ সালের প্রথম দিনে কলিকে সাময়িকভাবে ফেডারেশন থেকে বহিষ্কার করা হয়। তদন্ত কমিটি এই সিদ্ধান্তকে প্রতিহিংসাপরায়ণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে অভিযোগকারী শুটারের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রয়োজনে নারী খেলোয়াড়দের কাউন্সেলিং করার পরামর্শও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
একজন নারী সদস্য, আইনজ্ঞ এবং ক্রীড়া প্রশাসনে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নিয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সেল গঠনের প্রস্তাব এসেছে। এছাড়াও ক্যাম্প এলাকার সিসিটিভি মনিটরিং নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ রয়েছে।
শুটিং ফেডারেশনে অস্ত্র ও গুলির রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতিতে ত্রুটি খুঁজে পায় তদন্ত কমিটি। মজুদাগারের পাসওয়ার্ড কেবল যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দারের কাছে ছিল এবং ফুটেজ এক সপ্তাহের বেশি সংরক্ষিত থাকতো না। এজন্য ন্যূনতম তিন মাসের ফুটেজ সংরক্ষণের সুপারিশ এসেছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তিন সদস্যের কমিটি আহ্বায়ক ছিলেন—সাঁতার ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ও ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত নিবেদিতা দাস, সাবেক ভারোত্তোলক ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারী পরিচালক শাহরিয়া সুলতানা সূচি এবং শুটিং ফেডারেশনের সদস্য দাইয়ান। দাইয়ানকে কমিটিতে রাখার বিষয়ে সমালোচনা থাকায় তিনি শেষ পর্যন্ত প্রতিবেদন স্বাক্ষর করেননি।
সাবেক জাতীয় শুটার ও কোচ শারমিন আক্তার রত্না সাজ্জাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনি বলেন, “জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে ধন্যবাদ, সাজ্জাদকে অ্যাডহক কমিটি থেকে প্রত্যাহার করার জন্য। আশা করি, ভবিষ্যতে তিনি ফেডারেশনে নির্বাচন বা কমিটিতে অংশ নিতে পারবেন না। নারীদের সুরক্ষার জন্য দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এছাড়া মেধাবী শুটার কলির সাময়িক বহিষ্কারাদেশ দ্রুত প্রত্যাহার করার জন্যও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে অনুরোধ জানাই।”

