বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) থেকে অর্জিত রাজস্বের একটি অংশ সরাসরি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে বিতরণ করবে। টিভি সম্প্রচার স্বত্ব, গ্রাউন্ডস রাইটস এবং টিকিট বিক্রির আয়ের মধ্যে যে অর্থ বাকি থাকবে, তার ৩০ শতাংশ ফ্র্যাঞ্চাইজির ভাগ হবে।
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেখানে কোনো ফাঁকফোকর নেই। তবে বাস্তবতা দেখাচ্ছে, বিপিএলে আয়ের তুলনায় ব্যয় অনেক বেশি। তবুও ২০২৫ সালের বিপিএলের টিকিট বিক্রির আয়ের একটি লভ্যাংশ এইবার দলগুলোকে দেওয়া হয়েছে।
সুপার ফোরে খেলা চারটি দল পেয়েছে প্রতিটিকে ৫৫ লাখ টাকা, আর বাকি তিনটি দলও পেয়েছে অর্ধ কোটি টাকা করে। এই অর্থ দিয়ে অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজির পূর্ববর্তী বকেয়া পরিশোধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে এটি কেবল সাময়িক আর্থিক সহায়তার মতো, কারণ টিকিট বিক্রি থেকে আসা আয় তেমন প্রভাব ফেলতে পারছে না।
সিলেট পর্বের মোট টিকিট বিক্রি হয়েছিল দুই কোটি ৮৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, যা ঢাকা পর্ব থেকে চার কোটি টাকায় উন্নীত হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারছে না বিসিবি। টিকিট বিক্রির আয় হিসেব করলে বলা যায়, দ্বাদশ বিপিএলে ধস নেমেছে।
বিসিবি মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান এই বিষয়ে বলেছেন, “এবার ম্যাচ সংখ্যা কম হওয়ায় টিকিট থেকে আয়ের পরিমাণ কমেছে। এছাড়া একটি ভেন্যুতে সব ম্যাচ হওয়ায় কিছুটা প্রভাব পড়েছে।”
গভর্নিং কাউন্সিলের লক্ষ্য ছিল সিলেট ও চট্টগ্রাম পর্বে চার কোটি টাকার টিকিট বিক্রি করা। কিন্তু চট্টগ্রাম ভেন্যু বাতিল হওয়ায় সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। ঢাকা পর্বেও ম্যাচ সংখ্যা সীমিত। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ফাইনালসহ মোট ১০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষ করে প্লে-অফের চারটি ম্যাচ থেকে সবচেয়ে বেশি টিকিট বিক্রির আশা করা হচ্ছে।
টিকিট কমিটির কর্মকর্তারা মনে করছেন, টেনেটুনে এই চারটি ম্যাচ থেকে ৫ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হতে পারে। তবে এই আয় থেকে এবার ফ্র্যাঞ্চাইজিদের আলাদা লভ্যাংশ দেওয়া হবে না, যা আগেরবার ছিল।
ফারুক আহমেদ বিসিবি সভাপতি থাকাকালীন একাদশ বিপিএলে রেকর্ড ১৩ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছিল। এবার একটি দল কম থাকায় মোট ম্যাচ সংখ্যা কমেছে ১২টি। আগের বছরের তুলনায় এবারের টিকিট বিক্রি হতে পারে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা। ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিপিএলের বর্তমান কমিটি এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে।
টিকিট থেকে ছাড়া টিভি সম্প্রচার থেকেও তেমন লাভ নেই। টিভি রাইট বিক্রি হয়েছে মাত্র ১১ কোটি টাকায়, আর গ্রাউন্ডস রাইট থেকেও লাভের পরিমাণ খুব কম। সব মিলিয়ে, এবারের বিপিএল ইতিহাসে সবচেয়ে কম রেভিনিউয়ে চলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফ্র্যাঞ্চাইজিরা আশা করলেও বাস্তবতা বলছে, এবার বিপিএল থেকে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা সীমিত। তাই টিমগুলোর জন্য এটা শুধুই সাময়িক সহায়তা, বড় রেভিনিউয়ের নয়।

