ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ল বাংলাদেশ, আর এই অনুপস্থিতি কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো প্রতিযোগিতার আকর্ষণকেও প্রভাবিত করেছে। ভারতের ক্রিকেট ভক্ত এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি—উভয়ই এই প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভব করছে। বিশ্বকাপের জৌলুস অনেকটা কমে গেছে বলাই যায়।
বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে বাংলাদেশের চার ম্যাচের তিনটি কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইতে হওয়ার কথা ছিল। তবে বাংলাদেশ না খেলায় কলকাতার দর্শকদের আগ্রহ কমে গেছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিকল্প হিসেবে নেওয়ায় কলকাতার ক্রিকেটপ্রেমীরা ম্যাচগুলোতে আগের মতো উৎসাহ দেখাচ্ছেন না।
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতায় টিকিট বিক্রিতে ইতিমধ্যেই মন্দাভাব দেখা গেছে। কলকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বাইরে টিকিট কাউন্টার প্রায় ফাঁকা। এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখা যায়নি, যেখানে বিশ্বকাপের ম্যাচ হওয়া সত্ত্বেও দর্শকরা টিকিট কিনতে আগ্রহী নন। স্থানীয় আয়োজকদের জন্য এটি হতাশাজনক সংবাদ।
উদ্বোধনী দিনের তিনটি ম্যাচের মধ্যে একটির ভেন্যু ছিল ইডেন গার্ডেন্স। সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-স্কটল্যান্ড ম্যাচের জন্য গতকাল পর্যন্ত মাত্র ২,৯১৭টি টিকিট বিক্রি হয়েছে, যদিও ইডেনের দর্শক ধারণক্ষমতা ৬৫ হাজার।
অন্য ম্যাচগুলোর টিকিট বিক্রির চিত্রও আশার বাইরে। ১৬ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ড-ইতালির ম্যাচের টিকিট বিক্রি হয়েছে ৪,৯৭০টি, আর ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ইতালির ম্যাচের মাত্র ১,২৪৮টি। এতেই বোঝা যায়, বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া আইসিসির জন্য একটি বড় ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ না থাকায় দর্শক উপস্থিতি কম হওয়া, টিকিট বিক্রির পতন এবং স্থানীয় উৎসাহের অভাব—সব মিলিয়ে এই বিশ্বকাপের উত্তেজনা অনেকটা ফিকে হয়ে গেছে। কলকাতার ক্রিকেটপ্রেমীরা স্পষ্টভাবে অনুভব করছেন, বিশ্বকাপে প্রিয় দলের অনুপস্থিতি পুরো অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করছে।
এছাড়া এই পরিস্থিতি আইসিসি ও স্থানীয় আয়োজকদের জন্য শিক্ষণীয়। বড় টুর্নামেন্টে জনপ্রিয় দলের অনুপস্থিতি কেবল খেলায় নয়, দর্শক উপস্থিতি, অর্থনীতি এবং পুরো পরিবেশকেও প্রভাবিত করে। বাকি ম্যাচগুলোতে এই পরিস্থিতি কতটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে, তা দেখার বিষয়।

