টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চলা উত্তেজনা ও জটিলতা অবশেষে কিছুটা প্রশমিত হতে শুরু করেছে। এর পেছনে মূল কারণ হলো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত, যেখানে তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টুর্নামেন্টে বয়কটের ঘোষণার বিষয় থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে এ জন্য পিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন আইসিসির প্রতিনিধি, পিসিবি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা বৈঠকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি, তবে সাক্ষাতের পর বরফ গলার আভাস স্পষ্ট।
পিসিবির তিন শর্ত
ভারতীয় ও পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পিসিবি বৈঠকে আইসিসির কাছে তিনটি মূল দাবি উত্থাপন করেছে:
- বাংলাদেশকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, কারণ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ায় বোর্ডের ক্ষতি হয়েছে।
- বাংলাদেশের ‘অংশগ্রহণ ফি’ নিশ্চিত করা, যদিও তারা টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে না।
- ভবিষ্যতে আইসিসি ইভেন্ট একক বা যৌথভাবে আয়োজনের অধিকার বাংলাদেশকে দেওয়া হবে।
আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা বৈঠকে পিসিবিকে ম্যাচ বয়কট না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী আলাদাভাবে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো প্রথা নেই, তবে আইসিসির আয় বা লভ্যাংশের পুরো অংশ বাংলাদেশকে প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ইমরান খাজা আরও বলেছেন, যদি পিসিবি চায়, তারা বিষয়টি বোর্ড সভা বা আরবিট্রেশন কমিটিতে উত্থাপন করতে পারে, কিন্তু মাঠের খেলা বন্ধ রাখা উচিত নয়।
বৈঠকে অনিবার্য কারণ দর্শানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কারণ, টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র ১০ দিন আগে বয়কটের ঘোষণা দেয়ায় আইসিসি পিসিবিকে আইনি ব্যাখ্যা চেয়েছে। ম্যাচ না হলে সম্ভাব্য বড় আর্থিক ক্ষতি এবং পাকিস্তানের আইসিসি সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিলের ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে।
তবুও, পিসিবি মনে করছে, অতীতের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ সংক্রান্ত বিরোধ এবং আইনি যুক্তির ভিত্তিতে তাদের অবস্থান শক্তিশালী।
বৈঠকের প্রস্তাব ও আলোচনার পর পিসিবি এখন পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। সরকারের অনুমোদন পেলে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে। এ প্রেক্ষাপটে মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আগে বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এবারের আলোচনার পর পরিস্থিতি কিছুটা প্রশমিত হলেও, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যে কোনো সময় রাজনীতির প্রভাবের কারণে উত্তেজনাপূর্ণ থাকতে পারে, এ কথা অস্বীকার করা যাচ্ছে

