এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল একেবারেই ফেভারিট তকমা নিয়ে। কাগজে–কলমে শক্তিশালী স্কোয়াড, অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, বড় মঞ্চে সাফল্যের ইতিহাস—সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ধরেই নেওয়া হয়েছিল শিরোপা দৌড়ে এগিয়ে থাকা দল হিসেবে।
কিন্তু গ্রুপ পর্বেই বড় ধাক্কা। জিম্বাবুয়ের কাছে ২৩ রানে হেরে এখন মহাবিপদে অজিরা।
আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাদের ম্যাচটি তাই কার্যত বাঁচা-মরার লড়াই। হারলেই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যাবে অস্ট্রেলিয়ার।
ম্যাচটি হচ্ছে পাল্লেকেলেতে, স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার মাঠে। লঙ্কানদের বিপক্ষে তাদের ঘরের মাঠে হারানো কখনোই সহজ কাজ নয়। তার ওপর বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা রয়েছে দুর্দান্ত ছন্দে।
২০০৭ বিশ্বকাপের কথা অনেকেরই মনে পড়ছে। সেবারও জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে চাপে পড়েছিল রিকি পন্টিংয়ের অস্ট্রেলিয়া। তবে পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছিল তারা।
এবার কি সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারবে অজিরা?
বর্তমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপের চিত্রটা বেশ জটিল হয়ে উঠেছে।
-
অস্ট্রেলিয়া: ২ ম্যাচে ২ পয়েন্ট, নেট রানরেট +১.১০০ (অবস্থান তিনে)
-
শ্রীলঙ্কা: ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট, নেট রানরেট +৩.১২৫
-
জিম্বাবুয়ে: ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট, নেট রানরেট +১.৯৮৪
অর্থাৎ আজ হারলেই অস্ট্রেলিয়া বাদ। জয় পেলেও সমীকরণ পুরোপুরি সহজ হবে না—নেট রানরেটের লড়াইও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
দলের এই সংকটময় পরিস্থিতি সম্পর্কে ভালোভাবেই সচেতন ট্রাভিস হেড। তিনি বলেন,
‘হতাশাজনক অবশ্যই, কিন্তু এটাই ক্রিকেট। আমরা আগে এমন পরিস্থিতিতে ছিলাম। টসে আমরা ২০২৩ সালের কথাও বলেছিলাম, ইনজুরি ছিল, নানা চ্যালেঞ্জ ছিল, টুর্নামেন্ট এগিয়ে নেওয়ার পথটা খুঁজে নিতে হয়েছিল, যা ক্রিকেটে স্বাভাবিক। এখন অনেক কাছাকাছি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ম্যাচ হচ্ছে। সব দলই খুব শক্তিশালী।’
হেড আরও মনে করিয়ে দেন ২০২৩ সালের অভিজ্ঞতার কথা—
‘আমরা আগেও এই অবস্থানে ছিলাম। ড্রেসিংরুমে এমন কয়েকজন আছে, যারা ২০২৩ সালে ভারতে এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে এবং শেষ পর্যন্ত আমরা সেখান থেকে ইতিবাচক ফলই পেয়েছিলাম। তাই আমরা আবার সেই পরিকল্পনাতেই ফিরব। ড্রেসিংরুমে যতটা সম্ভব আত্মবিশ্বাস ধরে রাখব। আমাদের সামনে জেতার জন্য এখনো দুটি ম্যাচ আছে।’
অর্থাৎ হতাশা থাকলেও আত্মবিশ্বাস হারাতে রাজি নয় অস্ট্রেলিয়া।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বোলিং করার সময় আঙুলে চোট পান মার্কাস স্টয়নিস। ফলে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
দলের আরেক সদস্য ম্যাট রেনশ বলেন,
‘মেডিকেল স্টাফরা পরীক্ষা করে দেখবেন তার চোট কতটা গুরুতর।’
স্টয়নিস না খেলতে পারলে দলীয় ভারসাম্যে প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে মিডল অর্ডার ও অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে তার অনুপস্থিতি বড় ধাক্কা হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া মানেই লড়াই করে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। বড় টুর্নামেন্টে তাদের মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ খুব কমই পাওয়া গেছে।
কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। গ্রুপ পর্বেই এমন সমীকরণ—যেখানে একটি হার মানেই বিদায়।
শ্রীলঙ্কা ঘরের মাঠে, আত্মবিশ্বাসী ও ভালো নেট রানরেট নিয়ে এগিয়ে। জিম্বাবুয়েও দুই জয় নিয়ে শক্ত অবস্থানে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে আজকের ম্যাচ কেবল একটি গ্রুপ ম্যাচ নয়—এটি সম্মান, ঐতিহ্য এবং টিকে থাকার লড়াই।
আজকের ফল নির্ধারণ করবে অস্ট্রেলিয়ার ভাগ্য।
-
জয় পেলে আশা বাঁচবে।
-
হারলে বিশ্বকাপ শেষ।
ফেভারিট তকমা নিয়ে শুরু করা দলটি কি ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করবে কেন তারা ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা? নাকি শ্রীলঙ্কার মাটিতেই থেমে যাবে তাদের অভিযান?
সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আজ পাল্লেকেলেতে।

