বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে শিগগিরই। দীর্ঘ সময় নির্বাচক প্যানেলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হাবিবুল বাশার সুমন এবার আরও বড় ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের দ্বারপ্রান্তে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ককে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
১৮ ফেব্রুয়ারি বিসিবির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব পান বাশার। প্রস্তাব গ্রহণ করলে এটাই হবে তার প্রধান নির্বাচক হিসেবে প্রথম দায়িত্ব।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে ৫০টি টেস্ট ও ১১১টি ওয়ানডে খেলা হাবিবুল বাশার দেশের ক্রিকেটে ‘মিস্টার ফিফটি’ নামে পরিচিত। মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা যেমন আছে, তেমনি প্রশাসনিক কাজেও তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
বর্তমানে বিসিবির গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ গেম ডেভেলপমেন্টের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এর আগে নারী উইং নিয়েও কাজ করেছেন। ফলে ক্রিকেটের তৃণমূল থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত কাঠামো সম্পর্কে তার ধারণা বেশ গভীর।
২০১৬ সালে প্রথমবার জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলে জায়গা পান বাশার। এরপর টানা ৮ বছর নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় প্রধান নির্বাচকের ভূমিকায় ছিলেন ফারুক আহমেদ এবং মিনহাজুল আবেদিন নান্নু।
মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর সঙ্গে বাশারের কাজের সমন্বয়ও বেশ আলোচিত ছিল। তবে ২০২৪ সালে নান্নুর জায়গায় গাজী আশরাফ হোসেন লিপুকে প্রধান নির্বাচক করা হলে নির্বাচক প্যানেলে পরিবর্তন আসে। সেই সময় বাশারও প্যানেল থেকে সরে যান।
লিপুর প্যানেলে ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক ও হান্নান সরকার। রাজ্জাক যোগ দেন নান্নু-বাশার প্যানেলের শেষদিকে। পরে হান্নান সরকার কোচিংয়ে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে এবং রাজ্জাক বিসিবি নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে তারা প্যানেল ছাড়েন। হান্নানের জায়গায় যোগ দেন হাসিবুল হোসেন শান্ত।
বর্তমান প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু এই পদে আর থাকতে আগ্রহী নন। সাবেক এই অধিনায়কের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হচ্ছে এ মাসেই। নতুন করে চুক্তি নবায়নের বিষয়ে তিনি আগ্রহ দেখাননি।
তবে বিসিবি তাকে অন্তত আরও ২-৩ মাস দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেছে। স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব চালিয়ে যেতে তিনি রাজি হয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বে থাকছেন না—অর্থাৎ নতুন চুক্তির সম্ভাবনা নেই।
এই প্রেক্ষাপটেই হাবিবুল বাশারকে প্রধান নির্বাচক হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাব গ্রহণ করলে বাশারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। জাতীয় দলের পারফরম্যান্স, তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া, ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে প্রতিভা তুলে আনা—সব মিলিয়ে নির্বাচক কমিটির ভূমিকা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
একদিকে অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার, অন্যদিকে মাঠ ও বোর্ড—দুই জায়গার বাস্তবতা জানা—এই দুইয়ের সমন্বয় বাশারকে দায়িত্ব পালনে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন দিকনির্দেশনা আসবে কি না, সেটি এখন সময়ই বলে দেবে। তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, হাবিবুল বাশারের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

