মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে মিত্রদের অনীহা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হরমুজ প্রণালীকে নিরাপদ রাখতে অন্যান্য দেশকে নৌবাহিনী পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ট্রাম্প সরাসরি ন্যাটো জোটের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ন্যাটোর বেশিরভাগ মিত্র দেশই যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তারা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে অংশ নিতে আগ্রহী নয়।
এই মন্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প মূলত বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, দীর্ঘদিনের মিত্র হলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ন্যাটো দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াচ্ছে না—যা তার দৃষ্টিতে একটি বড় হতাশার বিষয়।
তবে একই পোস্টে তিনি একটি ভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, যদিও মিত্ররা সরাসরি অংশ নিতে চাইছে না, তবুও প্রায় সব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে সমর্থন করছে। অর্থাৎ, প্রকাশ্যে অংশ না নিলেও নীতিগতভাবে তারা ওয়াশিংটনের অবস্থানের সঙ্গে একমত—এমনটাই বোঝাতে চেয়েছেন তিনি।
কিন্তু এখানেই শেষ হয়নি তার ক্ষোভ প্রকাশ। আরও তীব্র ভাষায় তিনি বলেন, “আমরা তাদের রক্ষা করি, কিন্তু প্রয়োজনের সময় তারা আমাদের জন্য কিছুই করে না।”
এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অভিযোগ—ন্যাটো জোটে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করলেও অন্য সদস্য দেশগুলো সমানভাবে দায়িত্ব নিচ্ছে না।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ট্রাম্পের সেই পুরোনো অবস্থানকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি বরাবরই মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ও অর্থ ব্যয় করেই মিত্র দেশগুলো নিরাপত্তা পেয়ে থাকে, কিন্তু সংকটের সময়ে তারা একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করে না।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাফল্যের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার নেতৃত্বে ইরানের সামরিক বাহিনী এবং নেতৃত্বকে কার্যত “বিধ্বস্ত” করা হয়েছে।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই এই অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে, এবং সেই কারণে এখন আর ন্যাটো দেশগুলোর সহায়তার প্রয়োজন নেই।
পোস্টের শেষ অংশে তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কখনোই ন্যাটোর সহায়তা প্রয়োজন ছিল না—এখনও নেই।
এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি শুধু একটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।
বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে, তখন মিত্রদের মধ্যে মতপার্থক্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান এই যুদ্ধ শুধু সামরিক সংঘাত নয়—এটি ধীরে ধীরে বৈশ্বিক জোট রাজনীতির ভেতরেও ফাটল তৈরি করছে। আর সেই ফাটলের প্রকাশ এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে ট্রাম্পের বক্তব্যে।

