মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও ইরানকে ঘিরে সংঘাতের প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় বিদেশে অবস্থিত সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্রমবর্ধমান হামলা ও হুমকির প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি কূটনৈতিক মিশনকে তাঁদের নিজস্ব জরুরি কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা পুনরায় যাচাই করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এ ধরনের বৈশ্বিক সতর্কতা এই প্রথম।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনার ওপর একাধিক হামলার ঘটনা এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু ইরাকেই মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শতাধিক হামলা চালিয়েছে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে।
এ ছাড়া সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলায় ভবনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে কানাডার টরন্টোতে কনস্যুলেটের সামনে গুলিবর্ষণ এবং নরওয়ের অসলোতে দূতাবাস সংলগ্ন এলাকায় বিস্ফোরণের মতো ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইসরায়েলে অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিকদের আবাসিক এলাকায় একটি অবিস্ফোরিত ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ পড়ে থাকার ঘটনাও নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টিকে নতুন করে সামনে এনেছে। যদিও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবুও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
এদিকে কিছু দেশে মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশ থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কিছু মিশনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও জানিয়েছে, এমন বৈঠক ও মূল্যায়ন তাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, একযোগে বিশ্বব্যাপী সব মিশনের জন্য এ ধরনের নির্দেশ জারি করা অস্বাভাবিক এবং পরিস্থিতির গুরুত্বই তা প্রমাণ করে।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিক ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ভরযোগ্য কোনো হুমকির তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত নাগরিকদের জানানো হবে।

