ইরানে ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি প্রায় হাতের নাগালে ছিল বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জনাথন পাওয়েল।
তার মতে, তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তাতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব ছিল। এর মাধ্যমে যুদ্ধের ঝুঁকিও এড়ানো যেত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে জেনেভায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছিল। আলোচনায় উপস্থিত পাওয়েল ইরানের প্রস্তাবগুলোকে ‘বিস্ময়কর’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং মনে করেন, সেগুলোর ভিত্তিতে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব ছিল। এই চুক্তি হলে চলমান সংঘাত এড়ানো যেত বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। তবে তাদের কারিগরি অভিজ্ঞতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ ছিল বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এ কারণে আলোচনায় সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
সূত্রগুলো জানায়, মার্কিন প্রতিনিধিদল কোনো নিজস্ব কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল সঙ্গে না আনায় গ্রসিকেই কার্যত প্রযুক্তিগত পরামর্শকের ভূমিকায় রাখা হয়, যা তার আনুষ্ঠানিক দায়িত্বের বাইরে। অন্যদিকে, পাওয়েল নিজস্ব বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন।
আলোচনায় ইরানের পক্ষ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল দেশটির উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে কমিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মজুত না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি। এ ছাড়া ৩ থেকে ৫ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখার কথাও জানায় তেহরান। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্র এই সময়সীমা বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব দেয়।
আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়। মধ্যস্থতাকারীদের মতে, এ ধরনের প্রস্তাব অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং বাস্তবসম্মত ছিল।
এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, তার উদ্যোগেই উভয় পক্ষ আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি হয়।
তবে জেনেভা বৈঠকের পরবর্তী ধাপ হিসেবে ভিয়েনায় কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও তা আর অনুষ্ঠিত হয়নি। কারণ, নির্ধারিত বৈঠকের মাত্র দুদিন আগে ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
যুক্তরাজ্যের অবস্থান এ ক্ষেত্রে ভিন্ন ছিল। পাওয়েলের মূল্যায়ন অনুযায়ী, কূটনৈতিক পথ তখনো খোলা ছিল এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব ছিল। এ কারণেই লন্ডন শুরুতে এই হামলায় সমর্থন দিতে অনীহা প্রকাশ করে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সম্পর্কেও টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।

