মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দ্রুত বন্ধ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভ্যাটিকান। ক্রমবর্ধমান এই সহিংসতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছে খ্রিষ্টান বিশ্বের এই কেন্দ্র।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৮ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যাটিকানের স্টেট সেক্রেটারি কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন বলেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, সংঘাত যত দ্রুত সম্ভব থামানো জরুরি।
বিশেষ করে লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশটিকে নতুন করে সংঘাতের মধ্যে না জড়ানোই ভালো। ইসরায়েলের প্রতিও একই ধরনের বার্তা দিয়েছেন পারোলিন। তার মতে, সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগই দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই অঞ্চলে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। ওই হামলায় প্রায় ১,৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এর পর থেকেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এমন অঞ্চলগুলোতে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজার এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও এর প্রভাব পড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবানন ও ইরানে ব্যাপক মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। কয়েক লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। এতে পুরো অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যাটিকানের এই বক্তব্য মূলত আন্তর্জাতিক মহলকে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান। এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই আহ্বানে কীভাবে সাড়া দেয় এবং সংঘাত নিরসনে আলোচনার পথ খোলে কি না।

