কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটি দাবি করেছে, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর সামরিক হামলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানানো হয়েছে।
ইরানের অভিযোগ, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের বিরুদ্ধে যে সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে, তাতে পার্শ্ববর্তী কিছু দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিয়েছে। এর মাধ্যমে হামলাকারীদের সহযোগিতা করা হয়েছে বলে দাবি তেহরানের। এর আগে ৩, ৭, ৯ ও ১৬ মার্চেও একই বিষয়ে একাধিক চিঠি পাঠিয়েছিল ইরান। সর্বশেষ চিঠিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের সহায়তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এর ফলে ইরানের বহু বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরান আরও জানায়, আত্মরক্ষার অধিকার অনুযায়ী যেসব ঘাঁটি বা স্থাপনা থেকে তাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে বা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোকে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। তবে বেসামরিক ক্ষতি কমাতে তারা প্রয়োজনীয় ও সীমিত পদক্ষেপ নেবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে তেহরান দাবি করেছে, তারা সবসময় উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চেয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট তিন দেশ সেই সম্পর্কের প্রতি সম্মান দেখায়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের মাটি ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে।
বিশেষ করে কাতারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ক্ষতিপূরণের দাবিও জানানো হয়েছে। চিঠিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আনুষ্ঠানিক নথি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে ইরান।

