মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও। এই পরিস্থিতিতে ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হয়ে কাজ করার অভিযোগে তারা আরও ৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় একটি অঞ্চল থেকে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনায় জড়িত ছিল। তাদের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছিল বলেও দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
শুধু গ্রেপ্তারই নয়, ইরান আরও দাবি করেছে যে তারা সীমান্তবর্তী এলাকাতেও বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে, যা ইরাক সীমান্তের কাছে অবস্থিত, সেখানে পাঁচটি সশস্ত্র ভাড়াটে গোষ্ঠীকে নির্মূল করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাগুলো এমন এক সময় সামনে এলো, যখন দেশজুড়ে গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর আগে উত্তর আলবোর্জ প্রদেশে যুদ্ধসংক্রান্ত ফুটেজ বিদেশে পাঠানোর অভিযোগে ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই ফুটেজগুলো শত্রুপক্ষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসিও একই ধরনের তথ্য দিয়েছে। তাদের দাবি, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হয়ে কাজ করা মোট ১৭৮ জন গুপ্তচরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আইআরজিসির ভাষ্যমতে, আটক ব্যক্তিরা রেড ক্রিসেন্ট সেন্টার, চেকপোস্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি ও অবস্থান শত্রুপক্ষের কাছে পাঠিয়ে আসছিল। এসব তথ্যের ভিত্তিতে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও রয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, লোকেশন শনাক্তকারী ডিভাইস, উন্নত যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
সব মিলিয়ে এই ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুদ্ধ এখন শুধু সীমান্তে নয়, বরং দেশের ভেতরেও এক ধরনের অদৃশ্য লড়াই চলছে। গুপ্তচরবৃত্তি, তথ্য পাচার এবং অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে ইরান এখন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অভিযান আরও বাড়তে পারে, কারণ যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ঝুঁকিও তত বাড়বে।
বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে—এই সংঘাত শুধু সামরিক শক্তির লড়াই নয়, বরং তথ্য, কৌশল এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তারও এক জটিল যুদ্ধ।

