মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৮৬ জনে। এই সংখ্যার মধ্যে অন্তত ২১০ জন শিশু রয়েছে, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) এই তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিহতদের বড় একটি অংশই সাধারণ বেসামরিক মানুষ, যারা সরাসরি যুদ্ধের অংশ না হয়েও প্রাণ হারাচ্ছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৯৪ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সংখ্যা ইঙ্গিত দেয় যে, সংঘাতের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপরই। ঘরবাড়ি, কর্মস্থল কিংবা নিরাপদ আশ্রয়—কোথাও যেন নিরাপত্তা নেই।
অন্যদিকে সামরিক বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতিও কম নয়। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১৫৩ জন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এতে বোঝা যায়, সংঘাতটি কতটা তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই কতটা বিস্তৃত হয়েছে।
তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—৬৩৯ জনের মৃত্যুর তথ্য এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি। তাদের পরিচয় বা মৃত্যুর ধরন স্পষ্ট নয় বলে এই মৃত্যুগুলোকে ‘অমীমাংসিত’ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। এই সংখ্যা ইঙ্গিত দেয়, প্রকৃত মৃত্যুর হিসাব হয়তো আরও বেশি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই টানা সংঘাত ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক সংকট তৈরি করেছে। হাসপাতাল, জরুরি সেবা এবং উদ্ধার কার্যক্রমের ওপর চাপ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। অনেক এলাকায় আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সুবিধাও নেই।
এর আগেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, পরিস্থিতি এখন আরও বেশি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এই যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই—এটি একটি গভীর মানবিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। আর প্রতিদিন বাড়তে থাকা মৃত্যুর সংখ্যা সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনে দিচ্ছে।

