জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ পবিত্র ঈদের দিনও বন্ধ রাখা হয়েছে—যা গত প্রায় ৬০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঘটলো। চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কারণ দেখিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে।
স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) মসজিদের প্রধান প্রবেশপথগুলো বন্ধ থাকায় বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে অনেকেই মসজিদের আশপাশে, প্রাচীরের কাছে বা নিকটবর্তী খোলা স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এ ঘটনায় উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ লক্ষ্য করা যায়।
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের চার্চ বিষয়ক উচ্চ কমিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে হাজারো মুসলমান তাদের অন্যতম পবিত্র স্থানে ঈদের নামাজ পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তারা বিষয়টিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর গুরুতর হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানায়।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, মসজিদসংলগ্ন একটি এলাকায় হঠাৎ ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন দ্রুত এলাকা ছেড়ে সরে যেতে শুরু করেন। তবে এই ধোঁয়ার উৎস সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলি পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, কিছু মানুষ মসজিদের ফটকের সামনে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ মুসলিমদের পাশাপাশি ইহুদিদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে এটি ‘টেম্পল মাউন্ট’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকাকে ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রবেশে বিধিনিষেধ, খনন কার্যক্রম এবং আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ—এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

