ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে চার শতাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান—এমনটাই জানিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।
রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে ৪০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। তবে এই হামলার বড় একটি অংশ প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ইরানের ছোড়া প্রায় ৯২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে দেশটির প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেন, “ইরান ৪০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে সেগুলো প্রতিহত করার ক্ষেত্রে আমরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছি। আমাদের প্রতিরোধের হার প্রায় ৯২ শতাংশ।”
তবে সব হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়নি। শনিবার দক্ষিণ ইসরায়েলের দুটি শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্তত ১৮০ জনকে চিকিৎসাসেবা নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। যদিও হতাহতের বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে সংঘাতের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বলেন, এই যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়া এখন সময়ের দাবি।
রোববার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি এলাকা পরিদর্শনের সময় নেতানিয়াহু বলেন, ইরান শুধু ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই হুমকি নয়—বরং এটি ইউরোপসহ গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
তার ভাষায়, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের বেসামরিক এলাকাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, “ইরান পুরো বিশ্বকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এখন সময় এসেছে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর নেতাদের এই অভিযানে যুক্ত হওয়ার।” তিনি দাবি করেন, ইতোমধ্যে কিছু দেশ সেই পথে এগোতে শুরু করেছে, তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও শক্ত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত দিন দিন জটিল আকার ধারণ করছে। একদিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, অন্যদিকে পাল্টা প্রতিরোধ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে। এর প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং বৈশ্বিক রাজনীতি, নিরাপত্তা এবং জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
