ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ক্রমেই বাড়ছে অসন্তোষ। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির অধিকাংশ মানুষ এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন এবং এটিকে ‘প্রয়োজনীয়’ নয়, বরং ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছেন।
সিবিএস নিউজ এবং ইউ গভ-এর যৌথ জরিপের ফল প্রকাশ করেছে সিএনএন।
জরিপ অনুযায়ী, মোট ৬৬ শতাংশ আমেরিকান মনে করছেন—ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধটি ইচ্ছাকৃতভাবে শুরু করা হয়েছে। বিপরীতে ৩৪ শতাংশ এটিকে অপরিহার্য বলে মনে করেন।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে মতামত জানতে চাইলে দেখা যায়, ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা এই পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন না। মার্চের শুরুর তুলনায় এই বিরোধিতার হার বেড়েছে।
এছাড়া ৬৮ শতাংশের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এখনো এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। ৫৭ শতাংশ মনে করেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো যাচ্ছে না। অন্যদিকে ৪৩ শতাংশ মনে করছেন পরিস্থিতি ইতিবাচক।
রাজনৈতিক বিভাজনের দিক থেকেও মতামতে বড় পার্থক্য দেখা গেছে।
- ডেমোক্র্যাটদের ৯২ শতাংশ এই যুদ্ধকে ‘ইচ্ছাকৃত’ মনে করেন
- স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৭৩ শতাংশ একই মত দিয়েছেন
- রিপাবলিকানদের ৬৭ শতাংশ যুদ্ধকে প্রয়োজনীয় মনে করলেও ৩৩ শতাংশ ভিন্নমত পোষণ করেছেন
তবে একটি বিষয়ে প্রায় সবার মত এক—যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়া উচিত। জরিপে অংশ নেওয়া ৯২ শতাংশ মানুষ যত দ্রুত সম্ভব এই সংঘাতের অবসান চান।
এছাড়া,
- ৮০ শতাংশ ইরানের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন
- ৭৩ শতাংশ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার পক্ষে
- ৬৮ শতাংশ মনে করেন, অন্যান্য দেশের প্রতি ইরানের হুমকি বন্ধ করা জরুরি
ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তন হওয়া উচিত কি না—এই প্রশ্নে মতামত বিভক্ত।
৪৯ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রপন্থী নেতৃত্ব আনা প্রয়োজন। অন্যদিকে ৫১ শতাংশ তা জরুরি নয় বলে মত দিয়েছেন। একইভাবে বর্তমান নেতৃত্ব রেখে যুদ্ধ শেষ করা যাবে কি না—এ নিয়েও বিভাজন রয়েছে।
১৭ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৩৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর অনলাইনে এই জরিপটি পরিচালিত হয়। এতে ত্রুটির সীমা ধরা হয়েছে ±২ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট।
সব মিলিয়ে জরিপের ফল বলছে—ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনমত ক্রমেই নেতিবাচক দিকে যাচ্ছে।
যুদ্ধের লক্ষ্য অস্পষ্ট, ফলাফল অনিশ্চিত এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের আশঙ্কা—এসব কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে দ্রুত এই সংঘাতের অবসান চাওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

