মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কার্যত ‘অচল’ বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এখন তাঁর দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ দেশের ভেতরেই অবস্থান করছে।
স্থানীয় সময় রবিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রভাব এখন শেষের পথে। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিকে ইঙ্গিত করে দাবি করেন, তথাকথিত ‘র্যাডিকাল লেফট’ এবং ডেমোক্রেটিক পার্টি -ই বর্তমানে দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
এর আগে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানকে সরাসরি সতর্কবার্তা দেন। তিনি জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ ও উন্মুক্ত না করা হয়, তাহলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে, ইরান এই পরিস্থিতিতে কিছুটা ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থায় ইরানের প্রতিনিধি আলি মুসাভি জানিয়েছেন, বিদেশি জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে হবে। তার দাবি, এই নীতি মূলত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্যই নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, ইরানের ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচিত দেশগুলোর জন্য এই পথ সীমিত থাকতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই টানাপোড়েনের প্রভাব ইতোমধ্যেই বিশ্ববাজারে পড়তে শুরু করেছে। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হলে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই ইস্যু নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। টিম কেনি, যিনি মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, ট্রাম্পের নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যদি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে স্থলপথে সেনা মোতায়েনের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে তা সংঘাতকে আরও গভীর করে তুলবে এবং এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট কেবল আঞ্চলিক সীমারেখায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও বিস্তৃত।

