মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ গত বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে যে তার লোকসান ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ব্যাংকের মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৯৬০ কোটি ডলারে। তুলনামূলকভাবে, ২০২৪ সালে ফেডের লোকসান ছিল ৭ হাজার ৭৫০ কোটি এবং ২০২৩ সালে ১১ হাজার ৪৬০ কোটি ডলার।
কভিড-১৯ মহামারীর সময় অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে ফেড বিপুল পরিমাণ ট্রেজারি ও মর্টগেজ বন্ড কিনেছিল। এখন সেই বন্ডের পরিমাণ কমানো হয়েছে, ফলে দায়বদ্ধতা কমেছে এবং আর্থিক ভারসাম্য ফিরেছে। একই সঙ্গে সুদ বাবদ ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় ব্যাংকের আর্থিক অবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
ফেড শেষবার মুনাফা করেছিল ২০২২ সালে, তখন সরকারি তহবিলে জমা দিয়েছিল ৭ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। ২০২১ সালে এই জমা ছিল ১০ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। করোনা মহামারীর সময় নেওয়া প্রসারিত মুদ্রানীতির কারণে পরবর্তী বছরগুলোতে ফেডের ব্যয় বেড়ে যায় এবং লোকসানের মুখোমুখি হতে হয়। ওই সময়ে বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেওয়ার জন্য ফেড বড় অংকের ট্রেজারি ও মর্টগেজ বন্ড কিনেছিল।
২০২২ সালে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার বাড়াতে শুরু করলে ব্যাংকের আয়ের তুলনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া সুদের পরিমাণ বেড়ে যায়। এটি ফেডের লোকসানের মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত।
২০২৪ সাল থেকে সুদহার কমানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় আর্থিক চাপ কিছুটা হ্রাস পায়। বর্তমানে সুদহার সর্বাধিক ৫ দশমিক ২৫ থেকে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে নেমে ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে এসেছে। এর ফলে ২০২৫ সালে সুদ বাবদ ব্যয় কমে ১ হাজার ২১০ কোটি ডলারে দাঁড়ায়, যা আগের বছরে ছিল ৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলার।
ফেড সাধারণত বন্ড ও আর্থিক খাতকে প্রদত্ত সেবা থেকে আয় করে। সব ব্যয় মেটানোর পর উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়। বর্তমানে ফেডের ‘ডেফার্ড অ্যাসেট’ বা বিলম্বিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোর গতিপ্রকৃতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ফেড ফের মুনাফার পথে ফিরছে, যদিও তা ধীরে ধীরে। তবে ব্যাংক নিশ্চিত করেছে, লাভ বা লোকসান মুদ্রানীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

