মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় সম্ভাব্য হামলার সময়সীমা ১০ দিন পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে সাময়িক স্বস্তি দেখা গেছে। টানা কয়েকদিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকা দাম শুক্রবার কিছুটা কমে আসে, যদিও সামগ্রিক অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
স্থানীয় সময় শুক্রবার লেনদেনের শুরুতেই তেলের দামে পতন লক্ষ্য করা যায়। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১.৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৩.০৭ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দাম প্রায় ১.৮ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১০৬.১২ ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যহ্রাস মূলত সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক সংঘাত সাময়িকভাবে এড়ানোর আশায় হয়েছে। তবে আগের দিনের বড় মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় এই পতন খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি। আল জাজিরার-এর তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা শুরু হওয়ার পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়তে থাকে। এই সময়ের মধ্যে ব্রেন্টের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ এবং WTI প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মূলত কূটনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল। ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে তেহরানের সামনে একাধিক শর্ত তুলে ধরেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব শর্ত পূরণ না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেল শোধনাগারে হামলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় কোনো উন্নতি না হলে পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী খোলা না থাকলে তেলের দাম আবার ১১০ ডলারের ওপরে উঠে যেতে পারে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর পাশাপাশি এশিয়ার বড় আমদানিকারক রাষ্ট্রগুলো পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সম্ভাব্য সংকটের কথা মাথায় রেখে চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো আগাম মজুত বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার আইইএ (IEA) প্রধান ফাতিহ বিরোল আগেই সতর্ক করেছেন, বিশ্ব একটি বড় জ্বালানি সংকটের দিকে এগোচ্ছে। ট্রাম্পের ঘোষণায় সাময়িক স্বস্তি এলেও, সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত থাকায় ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

