মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্নের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বে মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় এক-চতুর্থাংশই আসে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। ফলে এলএনজি সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন তৈরি হলে তার প্রভাব সরাসরি অর্থনীতিতে পড়ে।
এলএনজি কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ
এলএনজি বা তরল প্রাকৃতিক গ্যাস মূলত গ্যাসকে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায়, প্রায় মাইনাস ১৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঠান্ডা করে তরলে রূপান্তর করার মাধ্যমে তৈরি হয়। এতে গ্যাসের আয়তন প্রায় ৬০০ গুণ কমে যায়। ফলে এটি সংরক্ষণ ও পরিবহন সহজ হয়। গন্তব্যে পৌঁছে আবার এটিকে গ্যাসে রূপান্তর করে ব্যবহার করা হয়।
এই জ্বালানি বিশ্বজুড়ে নানা খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। ঘরোয়া রান্না থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প কারখানা, এমনকি সার ও রাসায়নিক উৎপাদনেও এর বড় ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি জাহাজ ও ভারী যানবাহনের জ্বালানি হিসেবেও এর ব্যবহার বাড়ছে। বিশেষ করে সার উৎপাদনে এলএনজির গুরুত্ব বেশি হওয়ায় সরবরাহে সমস্যা তৈরি হলে খাদ্য উৎপাদনেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ এলএনজি পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে। এই গুরুত্বপূর্ণ পথ বিঘ্নিত হওয়ায় বড় রপ্তানিকারক দেশগুলো উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর প্রভাব শিল্প খাত থেকে কৃষি পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এলএনজি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বৈশ্বিক অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হতে পারে।

