মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্র এবং সমর্থক দেশগুলোর জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের যেকোনো করিডোর ব্যবহার বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এমন কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলপন্থী দেশগুলোর বন্দর থেকে আসছে কিংবা সেসব বন্দরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছে। এই ঘোষণা কার্যত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) আইআরজিসির নৌবাহিনী তিনটি ভিন্ন দেশের কনটেইনার জাহাজকে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ফিরিয়ে দেয়। সংস্থাটির দাবি, অনুমোদিত করিডোরে প্রবেশের চেষ্টা করলেও তাদের বাধা দেওয়া হয়। আইআরজিসি আরও অভিযোগ করে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে বলে “ভুল তথ্য” দেওয়ার পরই এসব জাহাজ এগিয়ে আসে।
পরিস্থিতি আরও কঠোর করে আইআরজিসি ঘোষণা করেছে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ। কেউ এই নির্দেশ অমান্য করে চলাচলের চেষ্টা করলে তাকে “কঠোর পরিণতি” ভোগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান ১০টি তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তবে আইআরজিসির এই ঘোষণার পর সেই দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক জনগণকে সতর্ক করে আইআরজিসি জানিয়েছে, যেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে, সেসব এলাকা দ্রুত ত্যাগ করা উচিত। পাশাপাশি আরেক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সেনাদের যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছেন, মার্কিন সেনারা ঘাঁটি ছেড়ে বিভিন্ন হোটেল ও অফিসে আশ্রয় নিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর হোটেলগুলোকে মার্কিন সেনাদের আশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

